‘প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় কেন সবটা এড়িয়ে যাচ্ছেন বুঝতে পারছি না…দায় তো ওনাকে নিতেই হবে!’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অঞ্জনা বসু!

টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত পরিচিত মুখ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত গোটা বিনোদন জগত। গত ২৯শে মার্চ, ২০২৬ তারিখে ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে ‘ভলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি ড্রোন শট নেওয়ার সময় অভিনেতা উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের কবলে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যু কেবল সহকর্মীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ দর্শকদের মনেও গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই টলিউডের অন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু সরাসরি আঙুল তুলেছেন প্রযোজনা সংস্থার দিকে। তাঁর মতে, এই মৃত্যুর দায় সম্পূর্ণভাবে প্রযোজনা সংস্থার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, অনেক সময়ই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী বা লাইফগার্ড ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুটিং করানো হয়। অঞ্জনা বসুর দাবি, প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের উচিত ছিল এড়িয়ে না গিয়ে সরাসরি এই ঘটনার দায়ভার গ্রহণ করা। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনায় শুধুমাত্র ‘দুর্ঘটনা’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না, বরং পরিকাঠামো ও পরিকল্পনার অভাবই এখানে প্রকট।
অন্যদিকে, প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ঘটনার সময় শুটিং প্রায় শেষের পথে ছিল এবং যে শটটি নিতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে, সেটি মূলত রাহুলের নিজেরই ইচ্ছা ছিল। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, পরিচালক ওই বিশেষ শটটি নিতে চাননি, কিন্তু অভিনেতা তাঁর কাজের ‘পারফেকশন’-এর জন্য এটি করতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও জানান যে, দুর্ঘটনার সময় তিনি নিজে স্পটে উপস্থিত ছিলেন না; হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় তিনি এই দুঃসংবাদ পান। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত টেকনিশিয়ানরা রাহুলকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
এই মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে শুটিংয়ের অনুমতি এবং নিরাপত্তা বিধি। ওড়িশা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সমুদ্র সৈকতে শুটিং করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো বৈধ অনুমতি নেওয়া হয়নি। সাধারণত সমুদ্রের ধারে শুটিং করতে গেলে লাইফগার্ড এবং পুলিশি পাহারার প্রয়োজন হয়, যা এই ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ। ভিডিও প্রতিবেদনেও দেখা গেছে যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি। এই প্রশাসনিক গাফিলতি রাহুলের মৃত্যুর পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
আরও পড়ুনঃ অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা! নাকি ধরা পড়ার ভয়? রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুতে প্রশ্নের মুখে প্রযোজক লীনা গাঙ্গুলী! চাপে পড়ে বিরাট সিদ্ধান্তে নিলেন তিনি!
রাহুলের এই মৃত্যু টলিউডের ওয়ার্কিং কালচার এবং আউটডোর শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে। ফেডারেশন এবং গিল্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অঞ্জনা বসুর মতো জ্যেষ্ঠ শিল্পীরা। তাঁদের মতে, কেবল নিয়মের জালে টেকনিশিয়ানদের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং শুটিং স্পটে শিল্পীদের প্রাণ রক্ষার জন্য আধুনিক সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। রাহুলের এই বিদায় যেন এক সতর্কবার্তা দিয়ে গেল, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিভাকে এভাবে অবহেলার শিকার হয়ে অকালে ঝরে যেতে না হয়।

