প্রিয়াঙ্কা-সহজকে আগলে রেখে চিরবিদায় রাহুলের! ৩৫ বছর বয়সেই বৈধব্যের য’ন্ত্রণা! ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে ভালো থাকার লড়াইয়ে শামিল প্রিয়াঙ্কা!

মাত্র উনিশ বছর বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। তখনই অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুরু হয়েছিল তাঁদের একসঙ্গে পথচলা। সাত পাক ঘুরে সংসার শুরু হলেও সেই পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। অভিনয়ের ব্যস্ততা আর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে বহুবার ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে তাঁদের সম্পর্ক। তবুও ভালোবাসার সুতোটা কোথাও ছিঁড়ে যায়নি। সংসারের দায়িত্ব নিয়ে প্রিয়াঙ্কা নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে নিয়েছিলেন কেরিয়ার থেকে, আর সেই সময়েই তাঁদের জীবনে আসে ছোট্ট সহজ, যাকে কেন্দ্র করেই ঘুরতে থাকে তাঁদের পৃথিবী।
সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, আসে বিচ্ছেদের অধ্যায়ও। যদিও আইনগতভাবে আলাদা না হলেও দীর্ঘদিন একাই ছেলেকে বড় করেছেন প্রিয়াঙ্কা। সিঙ্গল মাদার হিসেবে সহজকে মানুষ করার দায়িত্ব তিনি একাই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। পরে ছেলের মুখ চেয়ে আবার কাছাকাছি আসেন দুজন। ডিভোর্স মামলা প্রত্যাহার করে নতুন করে সম্পর্ককে সুযোগ দেন। একসঙ্গে না থাকলেও তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া আর বন্ধন অটুট ছিল। কখনও ডিনার, কখনও ছেলেকে নিয়ে সময় কাটানো, সব মিলিয়ে সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরে এসেছিল ধীরে ধীরে।
কিন্তু হঠাৎ করেই সেই গল্পে নেমে আসে অন্ধকার। মাত্র তেরো বছর বয়সেই বাবাকে হারাতে হল সহজকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার পৃথিবী যেন ওলটপালট হয়ে গেল। মায়ের চোখের সামনে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আর শোকের ভার একসঙ্গে বইতে হচ্ছে প্রিয়াঙ্কাকে। অন্যদিকে, ছেলের এই অবস্থায় নিজেকে সামলাতে পারছেন না রাহুলের মা। পরিবারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর সেই শোকের মাঝেই প্রিয়াঙ্কা নিজেকে শক্ত রেখে ছেলেকে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন।
কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে রাহুলের শেষকৃত্য। সেই কঠিন মুহূর্তে বাবার মুখাগ্নি করেছে সহজ। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর কাঁপা হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন প্রিয়াঙ্কা, যেন ছেলে সাহস পায় শেষ দায়িত্ব পালন করতে। তবে এই কঠিন সময়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন কেন তিনি ভেঙে পড়লেন না প্রকাশ্যে, কেন তাঁর চোখে জল দেখা গেল না। এমনকি তাঁর পোশাক আর আচরণ নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে, যা অনেকের কাছেই অমানবিক বলে মনে হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ের পরেই আবারও মৃ’ত্যু! প্রয়াত টলিউডের আরও এক অভিনেতা! হাতে ছিল না কাজ! সেই জন্যই কি এই পদক্ষেপ?
এই অযাচিত সমালোচনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কার অনুরাগীরা। তাঁদের মতে, একজন মানুষের ব্যক্তিগত শোককে বিচার করা অত্যন্ত সংবেদনহীন আচরণ। সম্পর্কের ওঠাপড়া থাকলেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বন্ধন ছিল গভীর এবং আন্তরিক। ২০২২ সালে নতুন করে সম্পর্ককে সুযোগ দেওয়ার পর আবারও এক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তাঁরা। সেই স্বপ্নই আজ ভেঙে চুরমার। একসময়ের ভালোবাসা, লড়াই আর ফিরে পাওয়ার গল্প আজ থেমে গেছে এক করুণ পরিণতিতে, যা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

