রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ের পরেই আবারও মৃ’ত্যু! প্রয়াত টলিউডের আরও এক অভিনেতা! হাতে ছিল না কাজ! সেই জন্যই কি এই পদক্ষেপ?

টলিউড এখনও সামলাতে পারেনি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের শোক। তার মধ্যেই এল আরও এক দুঃসংবাদ, প্রয়াত অভিনেতা প্রণব চট্টোপাধ্যায়। হঠাৎ এই মৃত্যুসংবাদে আবারও ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে বাংলা বিনোদন জগত। অভিনেত্রী অলকানন্দা গুহ সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্ট করে তাঁর শোক প্রকাশ করেছেন। সেই পোস্টেই উঠে এসেছে প্রণবের অসহায়তার কথা, কাজ না পাওয়ার যন্ত্রণা আর বেঁচে থাকার লড়াই। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের এই বাস্তবতা যেন আরও একবার সামনে এনে দিল তাঁর এই বিদায়।
অলকানন্দার পোস্টে লেখা কথাগুলো যেন হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি লিখেছেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাচ্ছি না বোন আমি আর পারছি না, কাজের খুব দরকার।” এই কথাগুলোই ছিল প্রণবের শেষ দিকের আক্ষেপ। অলকানন্দা জানিয়েছেন, তিনি নিজের কাজেও ডেকেছিলেন তাঁকে, কারণ প্রণব অভিনয়ে ছিলেন অসাধারণ। ভবিষ্যতে আরও অনেক কাজ করার কথা ছিল তাঁদের একসঙ্গে। কিন্তু সব পরিকল্পনাই থেমে গেল হঠাৎ করে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি, যা আরও বাড়িয়ে তুলছে রহস্য ও বেদনা।
এর মধ্যেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর শোকও যেন তাজা হয়ে উঠছে প্রতিটি মুহূর্তে। তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, তাঁর ফুসফুসে নোনা জল ও বালি ঢুকে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, খাদ্যনালি ও শ্বাসনালীতেও বালির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁর ফুসফুস প্রায় দ্বিগুণ ফুলে গিয়েছিল, যা মৃত্যু কতটা ভয়াবহ ছিল তা বুঝিয়ে দেয়।
সোমবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে রাহুলের শেষকৃত্য। পরিবারের অনুরোধে পুরো প্রক্রিয়াই হয়েছে অত্যন্ত সাধারণভাবে। স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার সকলের কাছে ব্যক্তিগত সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমরা খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের কিছুটা সময় দিন।” এই আবেদন শুধু একজন স্ত্রীর নয়, একটি পরিবারের যন্ত্রণার প্রতিফলন, যারা হঠাৎ করেই প্রিয়জনকে হারিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ছেলের কথাতেই সহজ কথার জন্ম, ওর নামেই চ্যানেলের নাম’ ‘আমি লিখলে সেটা পাঠানোর দায়িত্ব সহজের!’ ডিজিটাল দুনিয়ায় ছেলের হাতেই হয়েছিল বাবার হাতে খড়ি! সেই চ্যানেলই আজ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ স্মৃতি!
দুজন প্রতিভাবান মানুষের এমন আকস্মিক বিদায়ে শোকস্তব্ধ হয়ে রয়েছে টলিউড। একদিকে রাহুলের অসময়ে চলে যাওয়া, অন্যদিকে প্রণবের না পাওয়া আর লড়াইয়ের গল্প—দুটি ঘটনাই যেন একসঙ্গে তুলে ধরছে জীবনের নির্মম সত্য। আলো ঝলমলে ইন্ডাস্ট্রির আড়ালেও যে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে থাকে, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে। স্মৃতিতেই রয়ে যাবেন তাঁরা, তাঁদের কাজ আর মানুষ হিসেবে উষ্ণতা নিয়েই।

