পুলস্ত্যর সামনে খুলে গেল জন্মান্তরের রহস্যের খাতা! এবার মুখোমুখি গোরা ও পুলস্ত্য, মিলন হবে কি গোরা আর দিতির? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গোরার মা যখন সব জানতে পারেন, তিনি মনে মনে ঠিক করেন দিতি আর গোরার সম্পর্ক তিনি কিছুতেই মানবেন না। তিনি চাইছিলেন গোরার বিয়ে নিজের পছন্দমতো অন্য কোনো মেয়ের সাথে দিতে। কিন্তু দিতি খুব চালাক মেয়ে, সে বুঝতে পারে আড়ালে দাঁড়িয়ে কেউ তাদের কথা শুনছে। সে বুক ফুলিয়ে তার শাশুড়িকে জানিয়ে দেয় যে, গোরার প্রতি তার ভালোবাসা কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। এটি জন্ম-জন্মান্তরের সম্পর্ক, যা স্বয়ং ভগবান লিখে রেখেছেন এবং কেউ তাদের আলাদা করতে পারবে না।

পুরনো জন্মের কথা ও গোরার স্বীকারোক্তি গল্পে এক অদ্ভুত মোড় আসে যখন গোরা ‘ফুল-মুরারি’ কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ডটি পড়তে শুরু করে। পড়তে পড়তে সে বুঝতে পারে যে আগের জন্মে সে নিজেই ছিল মুরারি আর দিতি ছিল ফুল। এই কাব্যটি আসলে তাদেরই জীবনের এক না বলা গল্প। এই সত্য জানার পর দিতি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে গোরাকে প্রশ্ন করে, যদি আগের জন্মে তারা একে অপরকে ভালোবেসে থাকে, তবে এই জন্মে কি গোরা তাকে ভালোবাসবে না? গোরার মনের সব দ্বিধা কেটে যায় এবং সে স্পষ্টভাবে দিতিকে তার ভালোবাসার কথা জানায়।

হঠাৎ করেই দিতির ঘুম ভেঙে যায় এবং সে বুঝতে পারে এতক্ষণ সে যা দেখছিল তা আসলে একটা সুন্দর স্বপ্ন ছিল। তবে দিতি মনে মনে ঠিক করে নেয় যে, সে তার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। এদিকে তাদের ক্ষতি করার জন্য পুলস্ত্য আর কুন্তলী মিলে গভীর রাতে তাদের ঘরে ঘুমের ওষুধ স্প্রে করে দেয়। দিতি আর গোরা দুজনেই অঘোরে ঘুমিয়ে পড়লে পুলস্ত্য আলমারি থেকে লুকিয়ে সেই রহস্যময় ‘ফুল-মুরারি’ কাব্যটি চুরি করে নিয়ে যায়।

পরদিন সকালে দিতি আর গোরার ঘুম ভাঙতে অনেক দেরি হয়ে যায়। দিতি খুব অবাক হয় যে কেন তার এত বেলা অবধি ঘুম হলো। নিজের ঘরে গিয়ে সে দেখে আলমারি খোলা এবং সেখান থেকে সেই কাব্যগ্রন্থটি গায়েব। দিতির মনে তখনি সন্দেহ হয় যে এটি নিশ্চিত পুলস্ত্যের কাজ। সে সরাসরি পুলস্ত্যকে গিয়ে ধরলে সে চুরির কথা স্বীকার করে নেয় এবং জানায় যে সে ওই বইয়ের সবটা পড়ে ফেলেছে।

আরও পড়ুনঃ পারুলকে লুকিয়ে কিসের ফন্দি আঁটছে রায়ান? ভারত নাট্য উৎসবের মঞ্চেই কি ফাঁস হবে রায়ানের গোপন প্রেম? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

পুলস্ত্য দম্ভ করে বলে যে, দিতি আর গোরা যদি আগের জন্মের ফুল আর মুরারি হয়, তবে সে নিজে ছিল সেই জন্মের ‘অক্ষয়’। আগের জন্মেও সে তাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করেছিল এবং এই জন্মেও সে তাদের পিছু ছাড়বে না। পুরনো হারের প্রতিশোধ নিতে সে মরিয়া হয়ে ওঠে। দিতি সবটা গোরাকে জানালে, গোরা রেগে গিয়ে পুলস্ত্যকে কড়া ভাষায় সাবধান করে দেয়। শুরু হয় এক নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি।


Back to top button