স্মৃতি ফেরার আগেই ভালোবাসার জয়! ফুল-মুরারি কাব্যের হাত ধরে কাছাকাছি এলো দিতি ও গোরা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গোরার শান্ত ও ভক্তিময় রূপের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন সে রক্তিমের বাবাকে সুপথে আনার কঠিন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়। সে অনবরত তাঁকে ভগবানের নাম ও কীর্তন শুনিয়ে পরমেশ্বরের পথে ডাকার চেষ্টা করে, বারবার কৃষ্ণনাম জপ করতে বলে। তবে শুরুতে রক্তিমের বাবা অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় ছিলেন; তিনি রাগের মাথায় সাফ জানিয়ে দেন যে কৃষ্ণ তাঁর জীবনে কোনো মঙ্গল করেননি, তাই তিনি ভগবানের নাম নেবেন না। ঠিক সেই মুহূর্তে গোরা কোনো তর্কে না গিয়ে নিজে ভক্তিভরে গান ধরতে শুরু করে। গোরার সেই মিষ্টি গানের সুরে এক অদ্ভুত জাদু ছিল, যা নিমেষেই রক্তিমের বাবার মনের সব পুঞ্জীভূত রাগ জল করে দেয়। তাঁর মনে হয়, গোরার মধ্যে তিনি স্বয়ং মহাপ্রভুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন।
গোরার গানের ঐশ্বরিক ক্ষমতায় রক্তিমের বাবার দীর্ঘদিনের জেদ ও অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে গোরার পায়ে লুটিয়ে পড়েন এবং অশ্রুসজল চোখে ক্ষমা চান। তাঁর এই পরিবর্তন কেবল নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তিনি সশরীরে গোস্বামী বাড়িতে গিয়ে গোরার দাদুর পা ধরে নিজের সমস্ত অন্যায়ের জন্য মাফ চেয়ে নেন। গোরার এই অপরূপ শান্ত ও ব্যক্তিত্বময় রূপ দেখে দিতি অবাক হয়ে যায়। সে মনে মনে স্বীকার করে নেয় যে, গোরার মতো এমন গভীর ব্যক্তিত্বের প্রেমে না পড়ে থাকা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সত্যিই অসম্ভব। গোরার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দিতি তাঁর পায়ে ফুল অর্পণ করে তাঁকে ভক্তিভরে পুজো করে।

অন্যদিকে, জেলের অন্ধকারে বন্দি থেকেও রক্তিমের কানে পৌঁছাচ্ছিল বাইরের সব খবর। পুলস্ত তাকে বিস্তারিত জানায় যে কীভাবে গোরা নিজের আদর্শ দিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছে। এসব শুনে রক্তিম ঈর্ষা ও রাগে ফুঁসতে থাকে সে মনে মনে শপথ নেয় যে গোস্বামী বাড়ির বড় কোনো ক্ষতি সে করবেই। এরই মাঝে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন গোরা দিতিকে জানায় যে, দিতির স্মৃতি পুরোপুরি ফিরে না আসা পর্যন্ত সে তাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসতে পারবে না। দরজার আড়াল থেকে এই গোপন কথাটি শুনে নেয় গোরার মা এবং কুন্তলীরা। এই খবরে কুন্তলীরা অত্যন্ত খুশি হয়, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল গোরা কেবল লোকদেখানো স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়েছে দিতিকে, আসলে তাদের মধ্যে কোনো গভীর প্রেম গড়ে ওঠেনি।
আরও পড়ুনঃ বসু পরিবারের ওপর ঘনিয়ে এল কালো মেঘ! পারুলকে শেষ করতে লুকাস-শিরিন-সংযুক্তার গোপন প্ল্যান! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
গোরার মা এই সত্যটি জানতে পেরে মনে মনে এক নতুন পরিকল্পনা সাজাতে থাকেন। তিনি স্থির করেন যে দিতিকে কখনোই গোরার মনে জায়গা করতে দেবেন না এবং একদিন নিজের পছন্দমতো মেয়ের সাথেই ছেলের বিয়ে দেবেন। তবে দিতি অত্যন্ত বুদ্ধিমতী হওয়ায় সে বুঝতে পেরেছিল যে আড়ালে দাঁড়িয়ে কেউ তাদের কথা শুনছে। নিজের সম্মান ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষায় দিতি তার শাশুড়িকে যোগ্য জবাব দেয়। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, গোরার সঙ্গে তার ভালোবাসা কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন। বিধাতার এই লিখন কেউ মুছতে পারবে না এবং কেউ তাদের আলাদা করতে পারবে না।
গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন গোরা ‘ফুল-মুরারি’ কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ডটি পড়তে শুরু করে। সে উপলব্ধি করতে পারে যে গত জন্মে সে নিজেই ছিল মুরারি এবং ফুল ছিল দিতি; এই কাব্য আসলে তাদেরই ফেলে আসা জীবনের এক অমলিন অধ্যায়। কাব্যের এই সত্য সামনে আসায় দিতি আবেগপ্রবণ হয়ে গোরাকে প্রশ্ন করে—যদি গত জন্মে মুরারি ফুলকে ভালোবেসে থাকে, তবে এই জন্মে কি গোরা দিতিকে ভালোবাসবে না? গোরার মনের সমস্ত দ্বিধা তখন কেটে যায়। সে দৃঢ়কণ্ঠে দিতিকে জানায় যে, সে সত্যিই তাকে ভালোবাসে। অতীতের সেই অপূর্ণ প্রেম যেন বর্তমানের এই নতুন স্বীকৃতির মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।

