বারবার প্রতারণা আর অভাবের সাথে লড়াই! অবশেষে ১৭ বছরের মেয়ের জেদে সংসার পাতলেন অভিনেত্রী মল্লিকা ব্যানার্জি! তাঁর বাস্তব জীবন হার মানাবে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও!

বাংলা টেলিভিশন জগতের (Bengali Television) অত্যন্ত পরিচিত মুখ মল্লিকা ব্যানার্জী (Mallika Banerjee)। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি টলিপাড়ার বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত। ‘গীতা এলএলবি’, ‘সাহেবের চিঠি’, ‘সর্বজয়া’, ‘যমুনা ঢাকি’ এবং ‘মেমবউ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন কেড়েছে। মূলত পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর সাবলীল অভিনয় দক্ষতা তাঁকে ইন্ড্রাস্ট্রিতে এক আলাদা জায়গা করে দিয়েছে। তবে পর্দার হাসিখুশি এই অভিনেত্রীর বাস্তব জীবন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নাটকীয় নয়। দারিদ্র্য, প্রতারণা আর একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করেই তিনি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
মল্লিকার এই কঠিন সংগ্রামের পথ চলা শুরু হয়েছিল অনেক ছোটবেলা থেকেই। তিনি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন, তখন তাঁর কেন্দ্রীয় সরকারি চাকুরিজীবী বাবা হঠাৎই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবার অসুস্থতায় মধ্যবিত্ত পরিবারে চরম অর্থকষ্ট নেমে আসে। সেই অল্প বয়সেই পরিবারের হাল ধরতে হাতে তুলে নেন নাচের ঘুঙুর। আত্মীয়-স্বজনরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও হার মানেননি মল্লিকা। টিউশনি করানো থেকে শুরু করে নাচের অনুষ্ঠান এবং পরবর্তীকালে সিনেমার ব্যাকআপ ড্যান্সার হিসেবে কাজ করে তিনি নিজের ও পরিবারের খরচ চালাতে শুরু করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও মল্লিকা বারবার বড় ধাক্কা খেয়েছেন। খুব কম বয়সে ভালোবেসে ঘর ছেড়ে কলকাতায় চলে এসেছিলেন তিনি। এক সময় কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান গরিমা। কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। হঠাৎই তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর প্রতি আসক্তির কথা জানিয়ে সংসার ত্যাগ করেন। ন’বছরের মেয়েকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েন মল্লিকা। এরপর আবারও একজনের ওপর ভরসা করে অভিনয় ছেড়ে দিয়ে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সম্পর্কেও জোটেনি মর্যাদা; বরং দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে তিনি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বারবার ভেঙে পড়লেও মেয়ের মুখ চেয়ে পুনরায় অভিনয় জগতে ফেরার লড়াই শুরু করেন মল্লিকা। বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছোট ছোট চরিত্রের মাধ্যমে আবার কাজ শুরু করেন। ‘সোহাগী সিঁদুর’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি বড় সাফল্য পান। গত কয়েক বছরে নিজের কঠোর পরিশ্রমে কলকাতায় ফ্ল্যাট এবং গাড়ি কিনেছেন তিনি। অভিনেত্রী প্রমাণ করেছেন যে, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে শূন্য থেকে শুরু করেও জয়ী হওয়া সম্ভব। এখন তিনি টলিপাড়ার একজন প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনির্ভর অভিনেত্রী।
আরও পড়ুনঃ বোনের জন্য প্রাণের ঝুঁকি! বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে গোরা! দিতি কি পারবে স্বামীর প্রাণ রক্ষা করতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
মল্লিকার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তাঁর মেয়ে গরিমা। বর্তমানে ১৭ বছর বয়সী গরিমা তাঁর মায়ের একাকীত্ব ঘোচাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে দিয়েছেন। গত বছর জানুয়ারি মাসে পেশায় চিকিৎসক রুদ্রজিৎ রায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মল্লিকা। শুরুতে দ্বিধা থাকলেও মেয়ের উৎসাহে এবং রুদ্রজিতের ভালোবাসায় আজ তিনি সুখী। মল্লিকা জানিয়েছেন, তাঁর বর্তমান স্বামী এবং মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর, যা তাঁর জীবনের সব ক্ষত মুছে দিয়েছে। বর্তমানে মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে এক নতুন এবং সুন্দর জীবন অতিবাহিত করছেন এই লড়াকু অভিনেত্রী।

