‘ওপরের চটকটাই আসলে টোপ, ওটা দিয়েই ও…’ পিঙ্কি ব্যানার্জির অকপট স্বীকারোক্তিতে জল্পনা তুঙ্গে! কার মুখোশ খুললেন অভিনেত্রী?

বর্তমান সময়ে বাংলা ছোট পর্দার (Bengali Television) জগতের এক পরিচিত এবং দাপুটে মুখ পিঙ্কি ব্যানার্জি (Pinky Banerjee)। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর নতুন ধারাবাহিক ‘ভালোবাসার রং রুট’ এবং পর্দার বাইরের জীবন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, আজকের যুগে মানুষ অনেক সময় বাইরের চাকচিক্য বা ‘ওপরের চটক’ দেখে বিভ্রান্ত হয়, যা আসলে একটি টোপ মাত্র। এই চটকই মানুষকে অনেক সময় জীবনের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে ভুল পথে বা ‘রং রুট’-এ নিয়ে যায়। এই গভীর জীবনবোধ থেকেই ধারাবাহিকের নামকরণ এবং গল্পের বুনন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এই ধারাবাহিকে পিঙ্কি ব্যানার্জি বিনতা নামক এক শান্ত ও ধৈর্যশীল মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন। বিনতা এমন একজন নারী, যে খুব একটা কথা বলে না, কিন্তু তাঁর চোখের চাহনি আর নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে হাজারো আবেগ। পিঙ্কি জানান, বিনতার মতো সাধারণ চরিত্রে অভিনয় করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ এখানে সংলাপের চেয়ে অভিব্যক্তির গুরুত্ব বেশি। অভিনেত্রী আরও যোগ করেন যে, বাস্তব জীবনে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও বাউন্ডারি সেট করতে জানা মানুষ হলেও, বিনতা ঠিক তার উল্টো সে নিজের ভালোমানুষি বা দুর্বলতাকে আগলে রেখে পরিবারের জন্য লড়াই করে যায়।

ধারাবাহিকটির গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু বিনতার বড় মেয়ে রুপাইকে ঘিরে। পরিস্থিতির চাপে পড়ে এবং পরিবারের অন্ন সংস্থানের তাগিদে রুপাই বেছে নিয়েছে বাস চালকের মতো এক কঠিন পেশা। কাকার দুর্ঘটনার পর সংসারের হাল ধরতে সে কোনো দ্বিধা করেনি। পিঙ্কি ব্যানার্জি সাক্ষাৎকারে বলেন, একজন মা হিসেবে বিনতা তাঁর মেয়ের এই কঠোর পরিশ্রম দেখে ব্যথিত হন, কিন্তু আবার গর্বিতও বোধ করেন। তিনি চান রুপাইয়ের জীবনে এমন এক জীবনসঙ্গী আসুক, যে শুধু শারীরিকভাবে নয়, বরং মানসিকভাবেও তাকে বুঝতে পারবে এবং তার এই ‘শক্ত হাত’ পরম মমতায় ধরতে পারবে।

শুটিং সেটের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে পিঙ্কি ব্যানার্জি তাঁর সহ-অভিনেতাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ‘পঞ্চু বাবু’র চরিত্রে অভিনয় করা রানাদা এবং খলচরিত্রে তনুশ্রীর অভিনয়ের দক্ষতা নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। তিনি মনে করেন, একটি প্রজেক্ট সফল হওয়ার পেছনে পুরো ইউনিটের মধ্যে ভালোবাসা থাকা জরুরি। ধারাবাহিকের পরিচালক তমালদাও অভিনেত্রীকে যথেষ্ট সৃজনশীল স্বাধীনতা বা ‘স্পেস’ দেন, যার ফলে প্রতিটি দৃশ্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। টিআরপি তালিকার সাফল্যের চেয়েও দর্শকদের থেকে পাওয়া ভালোবাসাকেই তিনি বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘পকেটে পয়সাকড়ি আছে, পেটে শিক্ষা আছে, তাই…’ ‘আইন-কানুন মানুষের জন্য, ঘুষখোরদের জন্য…’ রাস্তায় গাড়ি আটকানো থেকে দেশের আইন, সব মিলিয়ে বি’স্ফোরক অরিত্র দত্ত বণিক!

ছোট পর্দার গুরুত্ব নিয়ে পিঙ্কি ব্যানার্জি এক জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সিনেমা বা থিয়েটারের মতো ছোট পর্দাও অভিনয়ের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। অনেক বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রী এই মাধ্যম থেকেই উঠে এসেছেন। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি প্রতিদিন সরাসরি সাধারণ মানুষের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে যায়, যা অন্য কোনো মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাঁর মতে, জীবনের পথ চলাটা অনেকটা উপন্যাসের মতো কোনো পাতা সঠিক আর কোনোটা ভুল, তা আগে থেকে বলা কঠিন। তবে মনের কথা শুনে চললে সেই রুট কখনো পুরোপুরি ভুল হতে পারে না।

Back to top button