‘পকেটে পয়সাকড়ি আছে, পেটে শিক্ষা আছে, তাই…’ ‘আইন-কানুন মানুষের জন্য, ঘুষখোরদের জন্য…’ রাস্তায় গাড়ি আটকানো থেকে দেশের আইন, সব মিলিয়ে বি’স্ফোরক অরিত্র দত্ত বণিক!

অরিত্র দত্ত বণিক (Aritra Dutta Banik) বাংলা বিনোদন জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ। শিশুশিল্পী হিসেবে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর, বর্তমান সময়ে তিনি নিজেকে একজন শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সমাজবিজ্ঞান ও আইনের ছাত্র হিসেবে সামাজিক অসংগতি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বিশ্লেষণধর্মী কন্টেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অরিত্র কেবল বিনোদন জগতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, নিজের অর্জিত শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি না করে, তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট কথা বলা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাক্ষাৎকারে অরিত্র অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে নিজের সামাজিক ও আর্থিক স্বচ্ছলতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমি সমাজের তুলনামূলক প্রিভিলেজ শ্রেণী থেকে বিলং করি। আমার বেঁচে থাকার মতো রসদ আছে, পকেটে কিছু পয়সাকড়ি আছে এবং শিক্ষা আছে’। তার মতে, এই আর্থিক ও শিক্ষাগত স্বাধীনতা তাকে কারোর কাছে মাথা নত না করে সত্য বলার সাহস দেয়। তিনি মনে করেন, সামাজিকভাবে তিনি যে সুবিধাগুলো পেয়েছেন, তার সৎ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে জানানো তার একটি বড় নাগরিক দায়বদ্ধতা।
অরিত্রর সাম্প্রতিক প্রতিবাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো নির্বাচনের নামে পুলিশের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ি দখল বা রিকুইজিশন করা। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ অনেক সময় আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করে। ২০০৬ সালের কলকাতা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, আগে সরকারি ও বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়া বেআইনি। অরিত্রর মতে, রাস্তায় হঠাৎ গাড়ি আটকে চাবি কেড়ে নেওয়া দস্যুবৃত্তির সমান। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সরব হয়েছেন এবং পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন যাতে সাধারণ মানুষ এই ধরনের ‘আইনি অপব্যবহার’ থেকে মুক্তি পায়।
অরিত্রর এই প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন তিনি হয়তো কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন। কিন্তু অরিত্র সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে, সরাসরি কোনো দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ানো তার লক্ষ্য নয়। তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সিস্টেমের যে ‘ম্যালফাংশন’ বা ত্রুটিগুলো রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করা। তিনি তৃণমূল, বিজেপি বা সিপিএম যেই অন্যায় করুক না কেন, সমানভাবে সমালোচনা করেন। তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষা শেষে বিচার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হওয়া, যাতে তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ ‘মা তো মাই হয়…’ ‘আমি নাকি গরীবের স্বাগতালক্ষ্মী!’ ‘গান গেয়েই আমার সংসার চলে!’ নোংরা সমালোচনার সঙ্গে মানসিক লড়াই! অকপটে ইমন চক্রবর্তী!
সাক্ষাৎকারের শেষ ভাগে অরিত্র সাধারণ মানুষকে ভয় কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, অতীতে তার বাড়িতে মস্তানদের হামলা হলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতার শরণাপন্ন না হয়ে একাই আইনি লড়াই চালিয়েছেন এবং জয়ী হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘আইন-কানুন মানুষের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছে, ভয় দেখানোর জন্য নয়’। কোনো নেতার তোষামোদ না করে বা অনৈতিক সুযোগ না নিয়ে কীভাবে মাথা উঁচু করে প্রতিবাদ করা যায়, অরিত্রর এই অবস্থান বর্তমান যুবসমাজের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

