শিরিনের মুখে ঝামা ঘষে পারুলের পদত্যাগ! চাকরি ছেড়ে এবার নিজের সাম্রাজ্য গড়বে পারুল! কি করতে চলেছে নায়িকা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, প্রতিযোগিতায় পারুলকে হারানোর জেদ নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল রায়ান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি সে বসু বাড়িতে ফিরতেই শুরু হয় চড়-থাপ্পড়ের বৃষ্টি। বাড়ির বড়দের রোষানল থেকে বাদ যায়নি সে, এমনকি মৈনাকদাও তাকে থাপ্পড় কষিয়ে দেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, রায়ান নিজেও যেন অনুতপ্ত হয়ে সবাইকে উসকে দিচ্ছিল তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই রায়ানের মা মৌসুমি দেবী নিজের চাল বদলে ফেলেন। তিনি রায়ানকে ছেড়ে উল্টো পারুলকেই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ফন্দি আঁটতে শুরু করেন।
মৌসুমি দেবী সরাসরি দাদুর কাছে গিয়ে দাবি করেন যেন পারুলকে বাড়ি থেকে বিদায় করা হয়। তার মতে, রায়ানের ঘর ছাড়ার পেছনে পারুলই দায়ী। তবে পারুল দমে যাওয়ার পাত্রী নয় সে দাদুকে কথা দেয় যে রায়ান যেন দ্বিতীয়বার বাড়ি ছেড়ে না যায়, সেই দায়িত্ব তার। অন্যদিকে দাদুর মনে গভীর বিশ্বাস জন্মেছে যে, মুখে যাই বলুক না কেন, রায়ান আসলে মনে মনে পারুলকে ভীষণ ভালোবাসে। রায়ান নিজেও অনুভব করে, স্ত্রীর যোগ্য সম্মান পেতে হলে তাকে পারুলের সমান স্তরে পৌঁছাতে হবে।
পারুলের সুপরামর্শে রায়ান এক বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে তার একঘেয়ে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করে। সে ঠিক করে, এখন থেকে নিজের প্যাশন অর্থাৎ থিয়েটার বা নাটক নিয়েই কাজ করবে। পারুলের উৎসাহে রায়ান দাদুর কাছে গিয়ে নিজের মনের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে। দাদুও নাতবউয়ের বুদ্ধিতে ভরসা রেখে রায়ানের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। এভাবেই পারুলের অনুপ্রেরণায় জন্ম নেয় ‘বসু থিয়েটার’, যা রায়ানের জীবনের এক নতুন পথ চলা শুরু করে।
সেখানে শিরিনের অহংকার চূর্ণ করে পারুল প্রথমে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেয়। পারুলকে অনুসরণ করে রায়ানও ইস্তফা দেয়। পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে যখন অনিরুদ্ধ স্যারও সিইও পদ থেকে রিজাইন করেন। পারুল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই গণ-পদত্যাগের ফলে তার নিজস্ব নতুন কোম্পানি খোলার পথ এখন আরও প্রশস্ত ও সহজ হয়ে গেল। শিরিন তখন অপমানে ও রাগে কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ ‘চাই না তোমাকে…শব্দগুলো আজও মনে বাজে!’ প্রথম প্রেমের স্মৃতি আজও তাজা! হঠাৎ ছেড়ে চলে যায় বয়সে বড় প্রেমিকা! সম্পর্ক ভাঙার য’ন্ত্রণা নিয়েই কি আজও অবিবাহিত অভিনেতা? মুখ খুললেন অম্বরীশ ভট্টাচার্য!
অফিসের অন্যান্য কর্মীরাও একে একে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পারুল সেই সমস্ত রিজাইন পেপার একত্রিত করে শিরিনের মুখের ওপর ছুঁড়ে মারে। নিজের ক্ষমতার দম্ভ এভাবে ধুলোয় মিশে যেতে দেখে শিরিন রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে। পারুলের এই সাহসী পদক্ষেপ আর রায়ানের সৃজনশীল উদ্যোগ সব মিলিয়ে বসু পরিবার ও তাদের কর্মজীবনে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়।

