‘আমার চোখের জল মোছানোর কেউ নেই!’ সাফল্যের আড়ালে লুকানো দহন! চার দেওয়ালের গোপন কান্না নিয়ে বিস্ফোরক ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত!

টলিউডের (Tollywood) চিরঞ্জীবী নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপোলি পর্দা শাসন করা এই অভিনেত্রীর সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কোন গভীর ক্ষত? সম্প্রতি মুক্তি পেতে চলা ছবি ‘করপুর’-এর প্রচারে এসে নিজের জীবনের এমন কিছু অজানা অধ্যায় সামনে আনলেন তিনি, যা শুনে রীতিমতো স্তব্ধ অনুরাগীরা। চার দেওয়ালের অন্দরে তাঁর একাকীত্ব থেকে শুরু করে কর্মজীবনের শীর্ষে থাকার মাশুল সব মিলিয়ে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ধরা দিলেন টলি-কুইন।
পর্দার ‘মৌসুমী সেন’ অর্থাৎ ঋতুপর্ণার নতুন চরিত্রটি কেবল একজন প্রফেসরের গল্প নয়, বরং এক লড়াকু নারীর প্রতিচ্ছবি। অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে এসেছেন, করপুরের মতো উবে যেতে নয়। পরিচালক অরিন্দম শীলের এই ছবিতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নৈতিকতার দ্বন্দ্বে এক নতুন ডাইমেনশন যোগ করেছেন তিনি। ঋতুপর্ণার মতে, এই চরিত্রটি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হতে চলেছে, কারণ এখানে প্রফেশনাল এবং পার্সোনাল লাইফের যে ভারসাম্যহীনতা দেখানো হয়েছে, তা বর্তমান সমাজের বহু কর্মরতা মহিলার বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি।
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঋতুপর্ণা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ এতগুলো বছর সংসার আর কাজ ব্যালেন্স করতে গিয়ে অনেক সময় নিজেকে অত্যন্ত অসহায় মনে হয়েছে। বিশেষ করে সন্তানদের বিশেষ কোনো সাফল্য বা অসুস্থতার সময় পাশে থাকতে না পারার যে দহন, তা তাঁকে কুরে কুরে খায়। তিনি বলেন, “অভিনেত্রীদের জীবনে চয়েস মেকিং খুব ডিফিকাল্ট। একদিকে ড্রিম প্রজেক্টের অফার আর অন্যদিকে পারিবারিক ক্রাইসিস এই দুইয়ের লড়াইয়ে অনেক সময় নিজেকে ক্ষমতাহীন মনে হয়।”
সাফল্যের শিখরে থাকা এই গ্ল্যামারাস নায়িকার মনের গভীরে লুকিয়ে আছে এক নিঃশব্দ হাহাকার। তিনি জানান, যখন তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তখন সেই যন্ত্রণা কেবল চার দেওয়ালের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাঁর কথায়, “আমি জানি আমার চোখের জল মোছানোর কেউ নেই। তাই নিজেই নিজের চোখের জল মুছে দাঁড়াতে হয়।” জনসমক্ষে হাসিমুখে ইন্টারভিউ দিলেও পর্দার আড়ালে যে একাকীত্ব তাঁকে গ্রাস করে, তা এই প্রথমবার ভক্তদের সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর এই স্বীকারোক্তি টলিপাড়ায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে সমসাময়িক বিতর্কিত বিষয় ‘বয়কট সংস্কৃতি’ এবং শিক্ষা দুর্নীতি নিয়েও মুখ খুলেছেন ঋতুপর্ণা। শিল্পীদের কাজের পরিধি যে কোনো ভৌগোলিক সীমানায় আটকে রাখা সম্ভব নয়, তা দৃঢ়ভাবে জানান তিনি। পাশাপাশি, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ কেবল ভালো ডিগ্রি নয়, ভালো মানুষ হওয়ার জন্য মূল্যবোধ ও অনুশাসনের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ শুধু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা নয়, বরং মানুষের বিহেভিয়ারিয়াল প্যাটার্ন বদলে দিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
আরও পড়ুনঃ ‘মাত্র ১৫ দিনের চরিত্র, কিন্তু চলল সাড়ে তিন মাস, তারপরেই উঠে গেল চ্যানেল…’ অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারানো! পড়াশোনার মাঝেই কীভাবে বিনোদন জগতে পা রাখলেন পল্লবী শর্মা? শুনলে চমকে যাবেন!
অবশেষে সিনেমাটির মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন দর্শক। আগামী ১৯শে মার্চ প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘করপুর’। ব্রাত্য বসু, সাহেব চট্টোপাধ্যায় এবং লহমার মতো তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিতে এই থ্রিলার সিনেমাটি যে বক্স অফিসে এক নতুন ধামাকা দিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে সিনেমার গল্পের চেয়েও ঋতুপর্ণার এই ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি দর্শকদের মনে সিনেমাটি নিয়ে কৌতূহল দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

