‘মাত্র ১৫ দিনের চরিত্র, কিন্তু চলল সাড়ে তিন মাস, তারপরেই উঠে গেল চ্যানেল…’ অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারানো! পড়াশোনার মাঝেই কীভাবে বিনোদন জগতে পা রাখলেন পল্লবী শর্মা? শুনলে চমকে যাবেন!

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) দর্শকদের কাছে পল্লবী শর্মা (Pallavi Sharma) এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ‘কে আপন কে পর’ ধারাবাহিকের জবা চরিত্রটি তাকে ঘরে ঘরে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে থেকে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে তার গভীর নিষ্ঠা এবং পরিশ্রম। পর্দার জবার মতোই বাস্তবেও তিনি অত্যন্ত শান্ত এবং দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যা তাকে দর্শকদের মনের খুব কাছে নিয়ে গেছে।

পল্লবী যখন দশম শ্রেণীতে পড়তেন, সেই সময় তিনি তার মাকে হারান এবং তার কিছুকাল পরেই বাবার বিয়োগ ঘটে। এত অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে জীবনের চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। ব্যক্তিগত জীবনের এই বিশাল শূন্যতা এবং পাহাড়প্রমাণ বাধা সত্ত্বেও তিনি ভেঙে পড়েননি। নিজের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার উভয়কেই সামলেছেন একা হাতে। কোনো গডফাদার বা পারিবারিক পরিচিতি ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের প্রতিভার জোরে তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।

অভিনয় জগতে পল্লবীর আসাটা ছিল বেশ আকস্মিক। তিনি যখন মাত্র নবম শ্রেণীর ছাত্রী, তখন একদিন নিজের পিসির সাথে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানেই তার সাথে দেখা হয় বিশিষ্ট পরিচালক অনুপ সেনগুপ্তর। প্রথম দেখাতেই পরিচালক তাকে পছন্দ করেন এবং সানন্দা টিভিতে শুরু হতে যাওয়া ‘নটী বিনোদিনী’ ধারাবাহিকে ‘লক্ষ্মীপ্রিয়া’ চরিত্রের জন্য অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। এভাবেই পিসির সাথে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ করেই খুলে যায় তার অভিনয় জীবনের দরজা।

প্রাথমিকভাবে পল্লবীকে জানানো হয়েছিল যে, এটি মাত্র ১০-১৫ দিনের একটি ছোট চরিত্র। কিন্তু তার অভিনয় এবং চরিত্রের জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, মাত্র ১৫ দিনের সেই সফর দীর্ঘ ৩-৩.৫ মাস পর্যন্ত চলেছিল। সেই সময় অডিশনে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বেশ আনন্দের সাথেই কাজ শুরু করেন। যদিও মাঝপথে চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি আবার নিজের পড়াশোনায় ফিরে যান, কিন্তু সেই একটি কাজই তার জন্য ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘৩৬ বছরের সদ্য জন্মানো ৫টা বিয়ে করা মহিলা…’, সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক! সুস্মিতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ সায়কের!

পড়াশোনা করার মাঝেই পল্লবীর কাছে একের পর এক নতুন প্রোজেক্টের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। প্রথম কাজের সাফল্যই তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে এক আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল, যার ফলে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়কেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ তার এই দীর্ঘ পথচলা এবং সাফল্য অগণিত তরুণ অভিনেত্রীর কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।

Back to top button