‘আমার মনটা ভেঙে দিয়েছে…’ ‘লঙ্কায় গেলেই সবাই রাবণ হয়, আমিও তাই…’, দীর্ঘ লড়াই শেষে কি তবে রাজনীতি থেকে মোহভঙ্গ? জীবন থেকে রাজনীতি নিয়ে কি বললেন অপর্ণা সেন?

বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলে আবার শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক (Director) ও অভিনেত্রী অপর্ণা সেন (Aparna Sen)। ভোটের বাদ্যি বাজতেই আবার ভেসে উঠেছে তাঁর নাম, তাঁর মত। ‘নিবেদিতা অনলাইন’ ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া তাঁর এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ঘিরেই শুরু হয়েছে এই নতুন ঝড়। যেখানে অপর্ণা সেনের গলায় একদিকে যেমন ঝরে পড়েছে হতাশা, তেমনই আর একদিকে কন্ট্রোভার্সি উসকে দেওয়া মন্তব্য তৈরি করেছে এক প্রবল বিতর্ক।

সাক্ষাৎকারে অপর্ণা সেন নিজের হতাশা উগরে দিয়ে বলেন, “আমার মনটা ভেঙে গেছে।” নাগরিক সমাজের ওপর তাঁর আস্থা থাকলেও, রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে তিনি পুরোপুরি বীতশ্রদ্ধ। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন, “কোনো রাজনৈতিক দলই আমাকে সরাসরি ‘এপ্রোচ’ করেনি।” তাঁর এই মন্তব্য একদিকে যেমন তাঁর নিরপেক্ষতাকে তুলে ধরে, তেমনই আর একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর বুদ্ধিজীবী মহলের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

Aparna Sen, Tollywood, Bengali actress, entertainment, director, অপর্ণা সেন, টলিউড, বাঙালি অভিনেত্রী, পরিচালক

কিন্তু বিতর্কের শুরু হয় যখন তিনি মন্তব্য করেন, “যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ।” এই মন্তব্য কি বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা মানুষের অপমান? পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করা সেই দিনগুলো কি তাহলে শুধু একটা ‘ভুল’ ছিল? অপর্ণা সেনের এই মন্তব্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূল, সব দলই তাঁর এই মন্তব্যে অসন্তুষ্ট। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, “পরিবর্তনের সময় উনি তো সামনে ছিলেন, এখন কেন এমন কথা বলছেন?”

অপর্ণা সেনের কন্ট্রোভার্সি শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মন্তব্যগুলোও তৈরি করেছে নতুন বিতর্ক। গ্রে ডিভোর্স বা লিভ-ইন রিলেশনশিপ নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ কিছু মানুষের কাছে প্রগতিশীল লাগলেও, অন্য অংশের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা পাওয়া অসম্ভব। এই মন্তব্য নারীবাদের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে, যা নিয়ে সমাজ মহলে চলছে তীব্র চর্চা।

নিজের পরিচালিত ছবির তালিকায় ‘রেপিস্ট’ কে শীর্ষে রাখা অপর্ণা সেনের সাহসী সিদ্ধান্তের পরিচয় দেয়। তিনি মনে করেন, এটি তাঁর সবচেয়ে পরিপক্ক কাজ। কিন্তু এই ছবির নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন এমন একটি নাম বেছে নিলেন তিনি?

আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারির সেই অভিশপ্ত রাত কেড়ে নিয়েছিল ঘুম! দু’মাস দুর্বিষহ বেকারত্ব! স্বামীর ব্রেন টি’উমার! তারপরেই সব শেষ! তনুশ্রীর গোস্বামীর লড়াই দেখে চোখে জল নেটপাড়ার!

ভোটের মুখে অপর্ণা সেনের এই সাক্ষাৎকার বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহাওয়ায় এক নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। তাঁর মন্তব্যগুলো একদিকে যেমন মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে, তেমনই আর একদিকে তৈরি করছে এক প্রবল বিতর্ক। তিনি কি সত্যি একজন প্রতিবাদী সত্তা, নাকি ‘সুবিধাবাদী’ বুদ্ধিজীবী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চলছে তুমুল তর্ক।

Back to top button