অস্ত্র হাতে রণচণ্ডী পারুল! বন্দি রায়ানকে মুক্ত করতে অপ্রতিরোধ্য নায়িকা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা (Parineeta) ধারাবাহিকে গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, শত্রুর ডেরায় বন্দি হয়েও রায়ানের চোখেমুখে ভয়ের লেশমাত্র ছিল না বরং সেখানে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিচরণ করছিল। সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত, পারুল তাকে এই অন্ধকার কুঠুরি থেকে মুক্ত করবেই। তার পাশে থাকা অন্য এক সহ-বন্দিকে রায়ান অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছিল যে, পারুল নিশ্চয়ই এতক্ষণে বড় কোনো চাল চেলে দিয়েছে। রায়ান জানে, পারুল দমে যাওয়ার মতো মেয়ে নয় প্রিয় মানুষের বিপদে সে হিমালয় সমান বাধাও টপকে যেতে পারে। তাদের মধ্যকার এই অগাধ বিশ্বাসই প্রমাণ করে দেয় যে, বিপদের মেঘ যতই ঘন হোক না কেন, তাদের ভালোবাসার শিকড় অনেক গভীরে।

অন্যদিকে, কাপাস্তু কমান্ডারের আস্তানায় তখন অস্থিরতার পারদ তুঙ্গে। নিজের দলের লোকদের একের পর এক ফোন করেও যখন সে কোনো সাড়া পাচ্ছিল না, তখন তার মনে সন্দেহের কালো মেঘ জমতে শুরু করে। প্রতিটি অনুত্তরিত কল তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে পর্দার আড়ালে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে গেছে। তার দক্ষ বাহিনী এভাবে নিঃশব্দে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তা সে কল্পনাও করতে পারেনি। এক তীব্র দুশ্চিন্তা ও ক্রোধ নিয়ে কমান্ডার সিদ্ধান্ত নেয় সে নিজেই ঘটনাস্থলে যাবে। বুদ্ধির লড়াইয়ের অধ্যায় শেষ করে পরিস্থিতি এখন এক অনিবার্য ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে।

রায়ানকে উদ্ধার করার পথটা পারুলের জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতি পদে পদে তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে, মোকাবিলা করতে হয়েছে অগণিত বাধার। কখনো প্রহরীর বেশে, কখনো বা অন্য কোনো ছদ্মাবরণে সে শত্রুর দুর্গের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। প্রতিটি পদক্ষেপ সে ফেলেছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে, কারণ সামান্য এক ভুল কেড়ে নিতে পারত তার এবং রায়ানের প্রাণ। কিন্তু পারুলের লক্ষ্য ছিল স্থির প্রিয়জনকে শত্রুর হাত থেকে ফিরিয়ে নিতে সে নিজের জীবন বাজি রেখে এক দুঃসাহসিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ করেই দুর্গের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। সেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে রায়ানের বুকটা ধক করে ওঠে। তার প্রথম চিন্তাই ছিল পারুলকে নিয়ে—তবে কি পারুল কোনো বিপদে পড়ল? গোলার বারুদের গন্ধ আর ধোঁয়ায় যখন চারপাশ আচ্ছন্ন, তখন রায়ানের মনে হচ্ছিল এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেল। প্রতিটি সেকেন্ড তখন তার কাছে বছরের সমান দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। পারুলের নিরাপত্তার কথা ভেবে তার অস্থিরতা তখন চরমে, কিন্তু সে জানত না যে এই ধ্বংসলীলার নেপথ্যে কার হাত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ একাধিক বিয়ে থেকে একাধিক শা’রীরিক সম্পর্ক! ‘সবই জানি, সবটা জেনেই ওকে..’ এই নিয়ে চতুর্থ বার বিয়ে করলেন অভিনেত্রী! সব জেনেই সুস্মিতা রায়ের পাশে দাঁড়ালেন স্বামী শুভাশিস!

ঠিক সেই মুহূর্তে কড়াৎ করে ঘরের দরজা খুলে যায় এবং ধোঁয়ার আড়াল থেকে এক ছায়ামূর্তি ভেতরে প্রবেশ করে। রায়ান অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং পারুল। তবে এ এক অন্য পারুল তার চোখেমুখে যুদ্ধের ক্লান্তি থাকলেও লক্ষ্য অর্জনের দীপ্তি উজ্জ্বল। পারুলের হাতে থাকা অস্ত্রটি তখন রক্তে রাঙানো, যা প্রমাণ দিচ্ছিল যে প্রহরীদের কঠিন বাধা সে কতটা নৃশংসভাবে পার করে এসেছে। পারুলকে এই রণংদেহী মূর্তিতে দেখে রায়ান যেমন বিস্মিত হয়, তেমনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এখন দেখার বিষয়, এই মরণপণ সংগ্রামের শেষ পরিণতি কোন দিকে যায়।

Back to top button