রায়ানকে উদ্ধার করতে গিয়ে মহাবিপদে পারুল! মাঝপথে বাধা হয়ে দাঁড়াল স্বয়ং কাপাস্তু কমান্ডার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রায়ানকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেয়ে পারুলের মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস নামলেও, তার চোখেমুখে তখন রাগের আগুন। না জানিয়ে একটি মাত্র চিঠিতে বিদায় জানিয়ে বিপদের মুখে চলে আসার জন্য রায়ানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে সে। রায়ানকে সামনে পেয়ে পারুল হুঙ্কার দিয়ে বলে, “তোকে আগে এখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাই, তারপর তোর মজা বুঝাবো! এভাবে পালিয়ে আসার জন্য তোর অবস্থা আমি নাজেহাল করে ছাড়বো।” পারুলের এই রাগের আড়ালে যে রায়ানের জন্য কতটা গভীর উদ্বেগ আর ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল, তা বুঝতে রায়ানের বাকি ছিল না।
ঠিক সেই আবেগঘন মুহূর্তেই গল্পের মোড় এক নাটকীয় রূপ নেয়। হঠাতই সেখানে কাপাস্তু কমান্ডারের নেতার আবির্ভাব ঘটে। তার বজ্রকণ্ঠের “এই বেটি!” ডাক শুনে পারুল শিউরে ওঠে এবং মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। চারদিকের পরিস্থিতি তখন ভীষণ উত্তপ্ত। পারুল কি ধরা পড়ে যাবে নাকি নিজের বুদ্ধির জোরে রায়ানকে এই নরক থেকে বের করে নিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। তবে পারুল দমে যাওয়ার পাত্রী নয়, সে দ্রুত মনে মনে পালানোর ছক কষতে শুরু করে।
পারুল স্থির করে যে সে একা নয়, বরং রুক্মিণীকে সাথে নিয়ে এক দুঃসাহসী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তারা স্থির করে যে সুযোগ বুঝে শিবিরের সবাইকে বিশেষ ওষুধ মেশানো খাবার বা পানীয় খাইয়ে অচেতন করে দেবে। এই পরিকল্পনা সফল হলে প্রহরীদের নজর এড়িয়ে রায়ানকে বের করে নেওয়া অনেক সহজ হবে। পারুলের এই অদম্য সাহস আর উপস্থিত বুদ্ধিই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও পারুল যেভাবে ঠান্ডা মাথায় ঘুঁটি সাজাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
আরও পড়ুনঃ ‘ও খুব ভালো খুব কেয়ারিং, ও আমার…’ তবে কি সব ধোঁয়াশার ইতি? সৌমিতৃষার সঙ্গে কবে দেখা যাবে আদৃত রায়কে! মুখ খুললেন অভিনেতা!
অন্যদিকে, বন্দী অবস্থায় থেকেও রায়ানের মনে পারুলের প্রতি অগাধ বিশ্বাস অটুট ছিল। সে নিশ্চিত ছিল যে পারুল তাকে উদ্ধারের জন্য ঠিক কোনো না কোনো উপায় বের করবেই। রায়ান তার পাশে থাকা একজনকে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে থাকে যে, এতক্ষণে পারুল নিশ্চয়ই বড় কোনো চাল চেলে দিয়েছে। কারণ সে জানে, পারুল চুপ করে বসে থাকার মতো মেয়ে নয়; প্রিয়জনকে বাঁচাতে সে যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে। রায়ানের এই বিশ্বাসই প্রমাণ করে তাদের সম্পর্কের গভীরতা।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কাপাস্তু কমান্ডার তার দলের লোকজনকে ফোন করতে থাকে কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া পায় না। একের পর এক ফোন কেউ রিসিভ না করায় কমান্ডারের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে এবং সে প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। কোনো একটা বড় বিপদ ঘটেছে বুঝতে পেরে সে দ্রুত সেই স্থানে ছুটে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে খুব শীঘ্রই কাপাস্তু কমান্ডারের সাথে রায়ান ও পারুলের সরাসরি সংঘাত অনিবার্য। বুদ্ধির লড়াই শেষ হয়ে এবার শুরু হতে চলেছে এক রক্তক্ষয়ী মরণপণ সংগ্রাম।

