‘আমাকে ‘অসৎ’ বলেছিল…’ ‘আমি ভালো দেখতে নই, ওর আরও ভালো দেখতে নায়ক চাই…’ রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানসিক হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ রাহুল ব্যানার্জির!

বাংলা অভিনয় জগতের অন্যতম শক্তিশালী এবং স্পষ্টবাদী অভিনেতা হিসেবে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) একটি আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠা এই অভিনেতা গত কয়েক দশকে নিজেকে একজন দক্ষ শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। শুধুমাত্র বড় পর্দা নয়, ছোট পর্দাতেও তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি রাহুল তাঁর স্পষ্টবক্তা স্বভাবের জন্যও পরিচিত। কোনো রাখঢাক না রেখে নিজের মনের কথা সোজা সাপটা বলতে তিনি কখনোই দ্বিধা করেন না, আর তাঁর সেই নির্ভীক মেজাজই এবার টলিপাড়ার এক পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল।
অন্যদিকে, রাজ চক্রবর্তী বর্তমান টলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এবং সফল পরিচালক। বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ময়দান সবখানেই তাঁর অবাধ বিচরণ। তবে গ্ল্যামার আর সাফল্যের এই ঝকঝকে পর্দার আড়ালে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এক অন্ধকার দিকও বিদ্যমান, যেখানে মাঝেমধ্যেই ক্ষমতার লড়াই এবং কাস্টিং নিয়ে টানাপোড়েন প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক সময় পরিচালকদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা কোনো অভিনেতার ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা সেই শিল্পীর কেরিয়ারে বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চাউর থাকা এই আধিপত্য বিস্তার এবং মানসিক চাপের বিষয়টিই রাহুলের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ফের সামনে চলে এসেছে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একটি পডকাস্টের প্রোমো ভিডিওতে রাহুল তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকের এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। অভিনেতা জানান, একটি সিনেমা চলাকালীন রাজ চক্রবর্তী তাঁকে কাস্ট করার পর থেকেই তাঁর ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিলেন। রাজের মনে হয়েছিল, রাহুল হয়তো সেই চরিত্রের জন্য যথেষ্ট ‘গুড লুকিং’ নন বা তাঁর মধ্যে সেই ‘হিরো’ সুলভ ব্যাপারটি নেই। এই দোদুল্যমানতা থেকেই শুরু হয় তিক্ততা। রাহুল অভিযোগ করেছেন যে, সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় একটি নামী সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকার দিয়ে রাজ তাঁকে সরাসরি ‘অসৎ’ বা ‘ডিজনেস্ট’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন।
সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাহুল জানান, রাজের সেই একটি মন্তব্য তাঁর জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তখন বর্তমান সময়ের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা না থাকলেও আনন্দবাজারের মতো সংবাদপত্রের প্রভাব ছিল আকাশচুম্বী। মাত্র ২৩-২৪ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে একজন প্রভাবশালী পরিচালকের এমন বিরূপ মন্তব্য রাহুলের মানসিক অবস্থাকে তছনছ করে দিয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় আমার মনে হতো সবাই যেন জেনে গেছে রাজ আমার সম্বন্ধে কী বলেছে। আমার পিসি থেকে শুরু করে পরিচিত সবাই যেন আমাকে ওই চোখেই দেখছে।’ এই মানসিক চাপ সহ্য করা সেই বয়সে তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন ছিল।
আরও পড়ুনঃ আবারও রান্নাঘরে সুদীপা চ্যাটার্জী! তবে কি সরে যাচ্ছেন কনীনিকা বন্দোপাধ্যায়?
দীর্ঘ কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও কেন এই তিক্ততা মিটল না, সেই প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন রাহুল। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, রাজ চক্রবর্তীর সাথে তাঁর রুচি, পড়াশোনা বা চিন্তাভাবনার জগতের কোনো মিল নেই। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মতো পরিচালকদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে পারলেও রাজের সাথে কথা বলার মতো কোনো সাধারণ বিষয় বা ‘কমন গ্রাউন্ড’ তাঁর নেই। অত্যন্ত কড়া ভাষায় রাহুল বলেন যে, তিনি রাজের সাথে কথা বলা একদমই ‘মিস’ করেন না। বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ পডকাস্টটি মুক্তি পেতে চলেছে, যা টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের সমীকরণকে আরও একবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

