‘আমার মেয়ে স্পেশাল চাইল্ড, ওর একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে…!’ পর্দার হিরো, বাস্তবের লড়াকু বাবা আবির! মেয়ে ময়ূরাক্ষীকে কেন লাইমলাইট থেকে দূরে রাখেন অভিনেতা?

টলিউডের (Tollywood) পর্দা-কাঁপানো নায়ক তিনি। কখনও ব্যোমকেশ বক্সী হয়ে রহস্যের সমাধান করেন, আবার কখনও সোনাদা হয়ে মাতিয়ে রাখেন আট থেকে আশিকে। কিন্তু ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট আর গ্ল্যামারের ঝকঝকে দুনিয়ার বাইরে আবির চট্টোপাধ্যায়ের (Abir Chatterjee) এক অন্য রূপ ধরা পড়ল সম্প্রতি। এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে প্রিয় এবং সংবেদনশীল অধ্যায় তাঁর মেয়ে ময়ূরাক্ষীকে নিয়ে মনের দুয়ার খুললেন অভিনেতা। আবিরের প্রতিটি কথা যেন চাবুক মেরে বুঝিয়ে দিল, এক জন সফল অভিনেতার চেয়েও এক জন লড়াকু বাবা হওয়া অনেক বেশি কঠিন এবং গৌরবের।

আবির চট্টোপাধ্যায় বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইট থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। কিন্তু এদিন তিনি অকপটে স্বীকার করলেন তাঁর জীবনের এক ধ্রুব সত্যকে। তিনি জানালেন, তাঁর মেয়ে ময়ূরাক্ষী একজন ‘স্পেশাল চাইল্ড’। আবিরের কথায় মিশে ছিল এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা আর অপরিসীম মমতা। তিনি বলেন, বাবা হিসেবে তাঁর খুব ইচ্ছে করে যে তাঁর মেয়ে তাঁর কাজ দেখুক, তাঁর সিনেমা উপভোগ করুক। কিন্তু ময়ূরাক্ষী তাঁর অভিনীত সিনেমা খুব একটা দেখে না। আবির কিছুটা আর্দ্র কণ্ঠে জানান, ‘আমি মিস করি যে ও আমার সিনেমা খুব বেশি দেখে না। হয়তো ইচ্ছে করে যে এই ধর সোনাদা…সেটা হয় না।’ এক জন বাবার কাছে এই না-পাওয়ার বেদনা যে কতটা গভীর, তা অনুভব করতে পেরেছেন তাঁর অগুনতি ভক্তরা।

সামাজিক অনুষ্ঠান বা বড় কোনও জমায়েতে সচরাচর আবিরকে তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেখা যায় না। এই নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল। অভিনেতা এদিন সেই ধোঁয়াশাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি জানান, অভিনেতা হিসেবে তিনি যেখানেই যান, সেখানে এক বিশাল জনসমুদ্র আর বাড়তি মনোযোগ তৈরি হয়। সেই ‘এক্সট্রা অ্যাটেনশন’ বা ভিড়ের চাপে যদি ময়ূরাক্ষীর কোনও অসুবিধা হয়, তবে বাবা হিসেবে সেটা তাঁর কাছে অসহনীয়। আবিরের কথায়, ‘ও পাশে থাকাকালীন যদি সেই অতিরিক্ত এটেনশন ওকে কোনওভাবে অস্বস্তিতে ফেলে, তবে সেটা হবে আমার জন্য সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি। সেই কারণেই আমি ওকে নিয়ে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলি।’ মেয়ের মানসিক প্রশান্তি যে তাঁর কাছে বক্স অফিসের সাফল্যের চেয়েও অনেক বড়, তা আবারও প্রমাণ করলেন এই অভিনেতা।

আবির তাঁর মেয়ের মধ্যে এক অদ্ভুত অলৌকিক শক্তি খুঁজে পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, তথাকথিত ‘স্বাভাবিক’ পৃথিবীর মানুষের চেয়ে ময়ূরাক্ষী অনেক বেশি শক্তিশালী। আবিরের ভাষায়, ‘ওর একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে।’ সেই ক্ষমতাটি হলো নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। আবির বলেন, তিনি প্রতিদিন তাঁর মেয়ের কাছ থেকে শর্তহীন ভালোবাসার পাঠ নিচ্ছেন। তাঁর আশেপাশে যারা থাকে, তাদের কাছ থেকে অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে ভালোবাসা আদায় করে নেওয়ার এক জাদু রয়েছে ময়ূরাক্ষীর মধ্যে। সে শুধু ভালোবাসা নেয় না, ফিরিয়েও দেয় কয়েক গুণ বেশি।

আরও পড়ুনঃ ‘উনাকে নিয়ে যে ধারণা ছিল সেটা মুছে গেল…!’ ‘কোয়েলকে দেখলে এখন আর সেই…’ ‘দেব ভুগেছেন, এবার কোয়েলের পালা’! রাজনীতিতে কোয়েল মল্লিক! মুখ খুললেন অরিত্র দত্ত বণিক!

আবির চট্টোপাধ্যায়ের এই স্বীকারোক্তি সমাজকে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ শিশুদের প্রতি অবহেলা নয়, বরং তাদের যে আলাদা এক জগত আছে এবং সেই জগত যে ভালোবাসায় ঘেরা সেটাই ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়। পর্দার হিরো আবির আজ সমাজের চোখে এক বাস্তব জীবনের আদর্শ বাবা হয়ে উঠেছেন। ময়ূরাক্ষীর সেই ‘বিশেষ ক্ষমতা’ যেন আজ আমাদের শেখাচ্ছে যে, পৃথিবীতে সবকিছুর ঊর্ধ্বে হলো মানুষের প্রতি মানুষের শুদ্ধ ভালোবাসা।

Back to top button