‘আমার পিরিয়ড, মুখে ব্রণ নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন?’ ‘নিঃসন্দেহে উনি একজন গণ্ডমূর্খ!’ ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে রণংদেহী মেজাজে ইমন চক্রবর্তী!

রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলা গান সবক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। ২০১৭ সালে ‘প্রাক্তন’ ছবির ‘তুমি যাকে ভালোবাসো’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। মেদিনীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই শিল্পী আজ বাংলা সঙ্গীত জগতের অন্যতম শীর্ষ মুখ। তবে সাফল্যের শিখরে থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শারীরিক সমস্যা নিয়ে ট্রোলিং থেকে রেহাই পাননি তিনি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই সব বিতর্ক ও নিজের শারীরিক লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন শিল্পী।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই ইমন তার গালে ব্রণ হওয়া নিয়ে নেটিজেনদের করা কুরুচিকর মন্তব্যের কড়া জবাব দেন। তিনি প্রকাশ করেন যে, তিনি দীর্ঘকাল ধরে এন্ডোমেট্রিওসিস নামক একটি ক্রনিক রোগে ভুগছেন। তিনি বলেন, ‘এটি ওভারির একটি সমস্যা যা বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ নারীর রয়েছে। পিরিয়ডের আগে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ত্বক অত্যন্ত তৈলাক্ত হয়ে যায় এবং ব্রণ বেরোয়। যারা সেলিব্রিটি হওয়ার সাথে ব্রণের সম্পর্ক খোঁজেন, তারা আসলে মূর্খ ছাড়া আর কিছুই নন।’
ইমন স্পষ্ট জানান, পিরিয়ড বা নারীদের শারীরিক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে তার কোনো দ্বিধা নেই এবং একে স্বাভাবিকভাবেই দেখা উচিত। ক্রমাগত সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের কতটা ক্ষতি করতে পারে, তা নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ইমন। তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি অতীতে ডিপ্রেশন মধ্য দিয়ে গিয়েছেন এবং সেখান থেকে একাই লড়াই করে ফিরে এসেছেন।
গায়িকার কথায়, ‘যখন আমার কাজ, আমার বড় হয়ে ওঠা বা আমার পরিবারকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়, তখন তা মেন্টাল হেলথকে ভীষণভাবে এফেক্ট করে।’ একজন শিল্পী যখন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে সফল হন, তখন তার সেই লড়াইকে সম্মান জানানোর বদলে যদি তার অতীত বা সংস্কৃতি নিয়ে কটু কথা বলা হয়, তবে তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হয়। কারণ পরিবার মানুষের আবেগের সবচেয়ে কাছের জায়গা।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান পাওয়ার পর ইমনকে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকে একে রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এর উত্তরে ইমন বলেন, ‘এই পুরস্কারটি আমার দীর্ঘদিনের গানের লড়াইয়ের স্বীকৃতি। এটা পাওয়ার পর মানুষের আনন্দ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু উল্টে আমাকে যে পরিমাণ আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে, তা কল্পনাতীত।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আরও পড়ুনঃ বউকে ‘বুড়ি’ বলায় ক্ষেপলেন রুবেল! ‘রাক্ষসের মতন কাজ…’ ট্রোলারকে তুলোধোনা করে যোগ্য জবাব দিলেন রুবেল দাস!
সাক্ষাৎকারের শেষে ইমন সমাজের তথাকথিত লিঙ্গবৈষম্যমূলক চিন্তাধারা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেন মেয়েদের সবসময় শান্ত হতে হবে বা কেন ছেলেদের সবসময় বেশি রোজগার করতে হবে এই ধারণাগুলো বদলানোর সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। একজন শিল্পী হিসেবে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে দর্শকদের আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

