‘এখনকার শিক্ষিকারা বি’কিনি পরে গোয়াতে…’ ‘আমাদের টিচারদের দেখেছি তারা…’ শিক্ষা ব্যবস্থা ও আজকের সংস্কৃতি নিয়ে মুখ খুললেন সোহিনী সরকারের!

আজকাল আমরা সবাই কমবেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) সময় কাটাই। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই পরিচিত-অপরিচিত সবার ব্যক্তিগত জীবনের নানা ছবি বা ভিডিও আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু এই বিষয়টি কি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের চেনা মূল্যবোধ বা সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে? জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী সরকার (Sohini Sarkar) সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এই বিষয়টি নিয়েই খুব জরুরি কিছু কথা বলেছেন, যা এখন নেট দুনিয়ায় রীতিমতো চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোহিনী তাঁর ছোটবেলার স্কুলের দিনগুলোর কথা মনে করে বলেছেন যে, তাঁদের সময়ে শিক্ষকদের সাথে ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্কের ধরনটা ছিল একেবারেই আলাদা। তখন শিক্ষিকাদের ছাত্রছাত্রীরা ‘দিদিমনি’ বলে ডাকতেন। সেই দিদিমনিরা যখন শাড়ি পরে, পরিপাটি করে চুলে বিনুনি বা খোঁপা বেঁধে স্কুলে আসতেন, তখন তাঁদের মধ্যে এক ধরণের গাম্ভীর্য ও আদর্শ খুঁজে পাওয়া যেত। ছাত্রছাত্রীদের কাছে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ছিল সম্পূর্ণ অজানা। সেই দিদিমনি ব্যক্তিগত জীবনে কার সাথে ঝগড়া করছেন, কিংবা তাঁর স্বামীর সাথে কেমন সম্পর্ক সেসব নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কোনো মাথাব্যথাই ছিল না। শিক্ষক মানেই ছিল এক সম্মানের জায়গা, যাঁকে কেবল ক্লাসরুমের গণ্ডিতেই দেখা যেত।

কিন্তু বর্তমানের ছবিটা একদমই অন্যরকম। সোহিনী আক্ষেপ করে বলেছেন যে, এখনকার ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা বলে আর কিছু নেই। এখন হয়তো কোনো ছাত্র বা ছাত্রী দেখছে তার স্কুলের প্রিয় শিক্ষক বা দিদিমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বানাচ্ছেন কিংবা ব্যক্তিগত ভ্রমণের ছবি শেয়ার করছেন। অভিনেত্রীর প্রশ্ন হলো, একজন ছোট শিশু বা কিশোর যখন তার শিক্ষককে এমন রূপে দেখে, তখন তার মনে কী ধরণের প্রভাব পড়ে? সে কি আগের মতো সেই শিক্ষককে একই রকম শ্রদ্ধার চোখে দেখতে পারে?

সোহিনী বলেন, “আমরা আমাদের টিচারদের দেখেছি শাড়ি পরে, বিনুনি বা খোঁপা করে স্কুলে আসতে। আমরা তাঁদের দিদিমনি বা দিদি বলে ডাকতাম।”। তাঁর মতে, শিক্ষকদের একটি নির্দিষ্ট মার্জিত রূপ ছিল যা ছাত্রদের মনে গভীর প্রভাব ফেলত।

আসলে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত জীবন আর চার দেয়ালের মাঝে আটকে নেই। তাঁরা কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন বা কার সাথে সময় কাটাচ্ছেন সবই এখন প্রকাশ্য। সোহিনী মনে করেন, এই সব কিছু দেখতে দেখতে আমাদের এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মানসিকতায় এক ধরণের পরিবর্তন আসছে। তবে এই পরিবর্তনটা ভালো না খারাপ, কিংবা এই পরিস্থিতির সাথে আমরা কীভাবে মানিয়ে নেব সেটার উত্তর কিন্তু অভিনেত্রীর কাছেও নেই। তিনি সোজাসুজি বলেছেন যে, এই নতুন যুগের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার কোনো সহজ উপায় আমরা জানি না। এর জন্য হয়তো আরও অনেকটা সময়ের প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সোমা চক্রবর্তীর স্বামী! গোটা বুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ! রঙের উৎসবে অভিনেত্রীর জীবনের শোকের ছায়া!

সোহিনী সরকারের এই সহজ কিন্তু গভীর প্রশ্নগুলো আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। সমাজ বদলাচ্ছে, প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের জীবনযাত্রাও পাল্টাচ্ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মাঝে পুরোনো দিনের সেই শ্রদ্ধা আর আদর্শের জায়গাটা কি হারিয়ে যাচ্ছে? সেই উত্তর হয়তো সময়ের কাছেই তোলা থাকল।

Back to top button