প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে হতেই ছাড়তে হয়েছিল অভিনয়? কেরিয়ারের মধ্য গগনে হঠাৎ এমন ছন্দপতন! রুপোলি পর্দা থেকে কেন সরে গিয়েছিলেন অর্পিতা চ্যাটার্জী?

টলিউডের (Tollywood) ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বললেই একজনের নাম সবার আগে মনে আসে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। আর তার পাশে উজ্জ্বল এক নাম অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় (Arpita Chatterjee)। কিন্তু এই গ্ল্যামারাস দম্পতির পর্দার পেছনের জীবনটা ঠিক কেমন? সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে অর্পিতার জীবনের এক অন্যরকম সংগ্রামের কথা। প্রসেনজিতের স্ত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় সীমাবদ্ধ না রেখে, কীভাবে তিনি দিল্লিতে নিজের আলাদা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
![]()
২০০৩ সালে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অর্পিতা। সেই সময় তিনি টলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী। কিন্তু বিয়ের ঠিক পরেই তাকে রুপালি পর্দা থেকে সরে দাঁড়াতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকায় ভক্তদের মনে প্রশ্ন উঠেছিল তবে কি বুম্বাদার ইচ্ছাতেই শেষ হয়ে গেল অর্পিতার ক্যারিয়ার? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অর্পিতা এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ তার নিজের। বিয়ের পর স্বামী এবং সংসারের মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে এবং ছেলে মিশুকের বড় হয়ে ওঠার দিনগুলোতে পাশে থাকতেই তিনি এই বিরতি নিয়েছিলেন।
অভিনয় ছাড়লেও অর্পিতা ঘরে বসে থাকেননি। টলিউডের ‘ফার্স্ট লেডি’ তকমা ঝেড়ে ফেলে তিনি পাড়ি জমান দিল্লিতে। সেখানে গড়ে তোলেন নিজের প্রোডাকশন হাউস এবং আইটি স্টার্টআপ। ভিডিওটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অর্পিতা আজ একজন সফল ব্যবসায়ী। প্রসেনজিতের পরিচয়ে নয়, বরং নিজের দক্ষতায় কর্পোরেট জগতেও তিনি নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। কাজের প্রয়োজনে তাকে বছরের অনেকটা সময় দিল্লিতে কাটাতে হয়, যা প্রমাণ করে যে তিনি কতটা আত্মনির্ভরশীল।
আরও পড়ুনঃ নিজের জায়গায় অটল কমলিনী! নতুন কি পারবেন সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নিতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সাফল্যের শিখরে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে অর্পিতা আজও সাদাসিধে। সম্প্রতি তার ছেলে তৃষাণজিতের গ্রাজুয়েশন সেরেমনিতে তোলা কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, একজন অতি সাধারণ মায়ের মতো ছাতা হাতে ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ভিডিওটিতে এই বিষয়টির প্রশংসা করে বলা হয়েছে, বড় স্টার বা বড় ব্যবসায়ীর পরিচয় ছাপিয়ে তার সাধারণত্বই তাকে অনন্য করে তুলেছে।

অনেকেই প্রসেনজিতের আগের বিয়ে এবং অপর্ণা গুহঠাকুরতার সঙ্গে বিচ্ছেদের রেশ টেনে অর্পিতাকে নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু সমস্ত সমালোচনাকে পাশে সরিয়ে গত দুই দশক ধরে তারা সুখে সংসার করছেন। প্রসেনজিৎ নিজেও স্বীকার করেছেন, তার জীবনের অনেক কঠিন সময়ে অর্পিতা তার স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের জীবন আমাদের শেখায় যে, নিজের স্বপ্ন পূরণের কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা সময় হয় না। তিনি যেমন সাফল্যের সঙ্গে ঘর সামলেছেন, তেমনই সফলভাবে ব্যবসা সামলাচ্ছেন। বুম্বাদার ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের আলোয় আলোকিত হওয়ার এই গল্প টলিউডের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

