‘বুড়ি হয়ে গেছ, চামড়া কুঁচকে গেছে!’ ‘বয়স হয়েছে বলে কেউ কাজে নিচ্ছে না!’ শ্বেতা ভট্টাচার্যকে নিয়ে নেটিজেনদের কুরুচিকর আক্রমণ! অভিনেত্রীর প্রতুত্তরে উত্তাল নেটপাড়া!

বাংলা টেলিভিশন (Bengali Television) জগতের অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ শ্বেতা ভট্টাচার্য (Sweta Bhattacharya)। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ছোটপর্দায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। ‘সিন্দুরখেলা’ থেকে শুরু করে আজকের ‘কোন গোপনে মন ভেসেছে’ প্রতিটি ধারাবাহিকেই তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে সম্প্রতি এক অনভিপ্রেত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি ছবি পোস্ট করার পর থেকেই নেটিজেনদের একাংশের তীব্র কটাক্ষ ও ‘এজ শেমিং’-এর শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে, যা নিয়ে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শ্বেতার শেয়ার করা একটি সাধারণ ছবিকে কেন্দ্র করে। সেখানে একদল নেটিজেন অভিনেত্রীর শারীরিক গঠন এবং ত্বকের পরিবর্তন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য শুরু করেন। মন্তব্যের ঘরে কেউ লিখেছেন, “এখন তো বুড়ি হয়ে গেছেন”, আবার কেউ লিখেছেন, “বয়স বাড়ার সাথে সাথে চামড়া কুঁচকে গেছে, আগের মতো আর জেল্লা নেই।” একজন অভিনেত্রীর স্বাভাবিক বার্ধক্য বা চেহারার পরিবর্তনকে যেভাবে জনসমক্ষে উপহাসের বিষয়বস্তু করা হয়েছে, তাতে স্তম্ভিত শ্বেতার অনুরাগীরা। এই ধরনের নেতিবাচক মানসিকতা সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধকার দিকটিকেই আবারও প্রকাশ্যে এনেছে।
শুধু বয়স নিয়েই নয়, অভিনেত্রীর পেশাগত জীবন এবং কর্মসংস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রোলাররা। কটাক্ষকারীদের দাবি, বয়স হয়ে যাওয়ার কারণেই নাকি শ্বেতা এখন আর আগের মতো কাজ পাচ্ছেন না। কেউ কেউ তো এমনও মন্তব্য করেছেন যে, “বুড়ি হয়ে যাওয়ার ফলেই কেউ আর কাজে নিচ্ছে না”। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শ্বেতা বর্তমানেও একটি অত্যন্ত সফল লিড চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তাঁর ক্যারিয়ারের গ্রাফ যথেষ্ট উর্ধ্বমুখী। পেশাগত সাফল্যকে বয়সের দোহাই দিয়ে খাটো করার এই প্রবণতা বিনোদন জগতের জন্য একটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর শ্বেতার ভক্তরা চুপ করে বসে থাকেননি। প্রিয় অভিনেত্রীর সমর্থনে তাঁরা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অনুরাগীদের মতে, বয়স বাড়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং একজন শিল্পী হিসেবে শ্বেতার অভিনয় ক্ষমতাই তাঁর আসল পরিচয়, গায়ের চামড়া বা বয়স নয়। অনেকেই পাল্টা জবাবে লিখেছেন যে, যারা এ ধরনের মন্তব্য করছেন তারা আসলে মানসিক অবসাদগ্রস্ত। শ্বেতার মতো একজন অভিজ্ঞ এবং পরিশ্রমী অভিনেত্রীকে এভাবে ছোট করা কেবল তাঁর অপমান নয়, বরং সুস্থ সমাজের অবক্ষয়ের লক্ষণ।
আরও পড়ুনঃ ভক্তদের অপেক্ষার অবসান! নতুন ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে রাধিকা? জানেন কোন ধারাবাহিকে দেখা যাবে এই ক্ষুদে অভিনেত্রীকে?
বিনোদন জগতের তারকাদের প্রায়শই এমন বডি শেমিং বা এজ শেমিং-এর মুখোমুখি হতে হয়। শ্বেতা ভট্টাচার্য বরাবরই বিতর্ক থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন এবং তাঁর শান্ত স্বভাবের জন্য তিনি পরিচিত। তবে এবার যেভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও কাজ নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে, তা রীতিমতো সীমা অতিক্রম করেছে। টলিউডের অনেক শিল্পীই এই ঘটনায় শ্বেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সাইবার বুলিং রুখতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। কাজ এবং অভিনয়ের মাধ্যমে এই সব কটু কথার যোগ্য জবাব দেওয়াই এখন শ্বেতার অন্যতম লক্ষ্য।

