ভূমিকম্পের আতঙ্কে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! ফ্ল্যাটের চোদ্দ তলার ঘরে একা রাজা গোস্বামী! নড়ে উঠল গোটা ফ্ল্যাট! ১৪ তলা সিঁড়ি ধরে তৎক্ষণাৎ লাফ! কি জানালেন অভিনেতা?

শুক্রবার দুপুরে কলকাতা ও তার আশেপাশের জেলাগুলোতে হঠাৎ ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়—বেঙ্গল দিনভর হালকা কাঁপুনি নয়, রিখটার স্কেলে প্রায় ৫.৪ থেকে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সম্পূর্ণ শহর থরথর করে ওঠে, বহু মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসে আতঙ্কে। ভূমিকম্পটির উৎস ছিল বাংলাদেশের খুলনা বা কাছাকাছি এলাকা, যার প্রভাবে প্রায় কয়েক সেকেন্ড থেকে অল্প সময় কম্পন জোরালো ছিল এবং বহু বহুতলেও কম্পনের ব্যপারটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
সেরকমই ভয়ঙ্কর কম্পনের সময়ে ঘটেছিল এক অভিনব অভিজ্ঞতা টলিপাড়ার প্রিয় অভিনেতা রজা গোস্বামী এর সঙ্গে। তিনি নিজের ১৪ তলা ফ্ল্যাটেই উঠেছিলেন, সেই অস্থির দুপুরে ফ্ল্যাটের এক প্রান্ত পরিষ্কার করার জন্য। কিন্ত যখন বাথরুমের দিকে হাত-মুখ ধুতে গিয়েছিলেন, তখনই অনুভব করেন মাথা ঘুরছে, কিন্তু আসলে সেটাই ছিল ভূমিকম্পের শক্তি! পুরো ফ্ল্যাট নড়ে যাচ্ছে, দেয়াল কেঁপে ওঠা—পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ মনে হচ্ছিল যে রোজকার সাধারণ ঘরোয়া অনুভূতির বদলে হঠাৎই আতঙ্কে তিনি ঘরে স্থির হতে পারেননি।
সময়ের অল্পের মধ্যেই তিনি দ্রুত ছাদে উঠেন, কিন্তু তখনই মনে পড়ে ঘরের চাবি তিনি সাথে করে আনতে ভুলে গেছেন। ফলে আবার ফ্ল্যাটের ভিতরে যান এবং চাবি নিয়ে সিঁড়ি ধরেই ১৪ তলা নিচে নামেন। এটাই নিরাপদ পন্থা সবার জন্য। রজা দৌঁড়ে ফিরে চাবি নিয়ে আসেন, তারপরই শুরু করেন ধীরে ধীরে সিঁড়ির ধাপ ধরে নিচে নামা, পাশাপাশি তিনি সবাইকে সাবধান করে বলেন, “লিফট নয়, সিঁড়ি ধরুন সবাই, লিফট ব্যবহার করবেন না।”
ঘটনার পুরো সময়টিই তিনি ক্যামেরাবন্দি করেন এবং সেই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন। ভিডিওতে শুধু ভূমিকম্পে কাঁপা নয়, বরং নিরাপদে নামার গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য সিঁড়ি ব্যবহার করায় জোর দেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এটি দেখে অনেকে প্রশংসা করেছেন, কেউ লিখেছেন, “এমন সময় সাহসিকতার সঙ্গে অন্যদের নিরাপদ পথে নামতে সাহায্য করা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
আরও পড়ুনঃ ‘আমাদের সময়ে এই লিভ-ইন থাকলে ভালো হতো, তাহলে…!’ কিসের এত আক্ষেপ অভিনেতার? বিয়ের আগে কেন লিভ-ইন-এ থাকতে চেয়েছিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়?
যদিও এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, আতঙ্ক এবং কম্পনের মাত্রার কারণে শহরে হালকা প্যানিক ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

