‘এটাই শেষ, আমি আর কোনদিনও…’ গায়িকার প্রয়াত মাকে অপমান! সহ্য করতে না পেরে বিরাট সিদ্ধান্ত নিলেন ইমন! লাইভে এসে কি জানালেন গায়িকা?

বৃহস্পতিবার সকালটা শুরু হল এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণায়। গায়িকা ইমন চক্রবর্তী আচমকাই জানালেন, তিনি আর ব্যক্তিগত ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকবেন না। তাঁর কণ্ঠে ছিল ক্লান্তি আর গভীর আঘাতের ছাপ। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মানসিক চাপ যেন এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত হল। অনুরাগীরা বুঝতে পারলেন, বিষয়টি সামান্য ক্ষোভ নয়, বরং অন্তরের গভীর ক্ষত থেকে উঠে আসা সিদ্ধান্ত।

সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে সবটা খোলসা করেন ইমন। সেখানেই সামনে আসে তাঁর কষ্টের আসল কারণ। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের উন্নয়ন নিয়ে একটি পাঁচালি গাওয়ার পর থেকেই সমালোচনা আর কটাক্ষের মুখে পড়ছিলেন তিনি। মতভেদের জায়গা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই সমালোচনা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়। পরিস্থিতি আরও নির্মম হয়ে ওঠে যখন তাঁর প্রয়াত মাকেও সেই আঘাতের বাইরে রাখা হয়নি।

মায়ের মৃত্যুদিবসে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন ইমন। সেই স্মৃতিচারণের নিচে একাধিক কুরুচিকর মন্তব্য তাঁকে ভেঙে দেয়। কেউ কেউ বিদ্রূপ করে লিখেছেন, তাঁর মা নাকি দেখছেন তিনি কীভাবে পাঁচালি গেয়ে বঙ্গবিভূষণ পেয়েছেন, এরপর হয়তো নোবেলও পাবেন। এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য শুধু একজন শিল্পীকেই নয়, একজন মেয়েকেও গভীরভাবে আঘাত করেছে। লাইভে কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে কষ্ট হচ্ছিল তাঁর।

ইমন জানান, ওই মন্তব্য পড়ার পর সারা রাত ঘুমোতে পারেননি তিনি। মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল যে শারীরিক অসুস্থতাও অনুভব করেন। একজন শিল্পী হিসেবে সমালোচনা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে এমন আক্রমণ অসহনীয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তা কি এতটা অমানবিক হয়ে উঠতে পারে যে একজন প্রয়াত মানুষকেও বিদ্রূপের নিশানা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ শরীরে ক্যা’নসার! মনে অদম্য জেদ! নাট্যকার থেকে বিশ্বসেরা অভিনেতা! জেনে নিন চন্দন সেনের অজানা জীবন কাহিনি!

অবশেষে তাই নিজের মানসিক সুস্থতাকে প্রাধান্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইমন। আপাতত কাজ আর সংগীতেই মন দিতে চান তিনি। অনুরাগীদের অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর আবারও উঠে এল এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি কখনও মানবিকতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। ইমনের সিদ্ধান্ত সেই প্রশ্নকেই সামনে এনে দিল নতুন করে।

Back to top button