‘এখানে সততার দাম নেই, চারিদিকে শুধুই বিশ্বাসঘাতকতা…’ কন্ট্রাক্ট থাকার পরেও কাজ হারালেন অভিনেত্রী! কেনো? কি এমন করেছিলেন তিনি? ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে বাদ পড়া নিয়ে মুখ খুললেন তন্নি লাহা রায়!

বর্তমান বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে (Bengali Television) জনপ্রিয়তা আর টিআরপি-র ইঁদুর দৌড়ে অনেক সময় পিষ্ট হতে হয় খোদ শিল্পীদেরই। জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ‘মীরা’ অর্থাৎ অভিনেত্রী তন্নি লাহা রায়ের (Tanni Laha Roy) আকস্মিক প্রস্থান নিয়ে এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে স্টুডিও পাড়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তন্নি যা জানিয়েছেন, তাতে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের এক অস্বস্তিকর চিত্র সামনে এসেছে। মীরা চরিত্রটি ছিল এই ধারাবাহিকের গল্পের অন্যতম প্রাণভোমরা। আর্য এবং কিঙ্করের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই নেতিবাচক চরিত্রটির মধ্যে দিয়ে তন্নি এক নতুন অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। দর্শকদের একাংশের বড় আশা ছিল যে, হয়তো গল্পের মোড় ঘুরে মীরা ভবিষ্যতে ইতিবাচক চরিত্রে ফিরবে, কিন্তু তার আগেই এক রহস্যময় সিদ্ধান্তে চরিত্রটিকে গল্প থেকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা হলো।
তন্নির স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজে থেকে এই ধারাবাহিক সরতে চাননি এবং কেন তাঁকে সরানো হলো তার কোনো সুনির্দিষ্ট সদুত্তরও তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাননি। স্রেফ গল্পের পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে যেভাবে তাঁকে হঠাৎ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা কার্যত এক রাতের নোটিশে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার মতোই যন্ত্রণাদায়ক বলে তিনি মনে করছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পেশাদারিত্বের অভাব এবং আনুগত্যের প্রশ্নটি। তন্নি জানিয়েছেন, তিনি যখন কোনো হাউসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকেন, তখন চরম সততার সঙ্গে কেবল সেই কাজটিতেই মনোনিবেশ করেন এবং বাইরের অন্য কোনো লোভনীয় কাজের প্রস্তাব গ্রহণ করেন না। অথচ তাঁর এই দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠতা এবং ডেডিকেশনের বিনিময়ে ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে শেষ পর্যন্ত কী প্রতিদান দিল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
তন্নির আক্ষেপ, আজকালকার দিনে সততা বা লয়ালিটির কোনো দাম নেই এবং চুক্তিপত্র থাকা সত্ত্বেও অভিনেতাদের কাজের কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা নেই। এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য অনেক ছোট-বড় শিল্পীরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁরাও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। অভিনেত্রী নিজেও জানতেন না যে তাঁর এই প্রতিবাদের পর ইন্ডাস্ট্রির গোপন ক্ষতগুলো এভাবে বেরিয়ে আসবে। একদিকে যখন মীরাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার অনুরাগী সরব হয়েছেন এবং চ্যানেলের ফেসবুক পেজে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন, তখন অন্যদিকে চ্যানেল বা প্রযোজনা সংস্থার এই রহস্যময় নীরবতা নেটিজেনদের মনে আরও অনেক নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিচ্ছে।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেই এখন কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, তবে কি পর্দার পেছনের কোনো বিশেষ চক্রান্ত বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনেই মীরার ট্র্যাক এমন অকালমৃত্যুর মুখে পড়ল? তন্নি নিজে ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত অন্তর্মুখী এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ হওয়ায় তিনি এই লড়াইয়ে সরাসরি কোনো কাদা ছোড়াছুড়িতে না নামলেও, তাঁর এই নিঃশব্দ প্রস্থান বাংলা মেগা সিরিয়ালের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অস্তিত্বের সংকটকে আরও একবার নগ্নভাবে প্রকাশ্যে এনে দিল। তিনি জানিয়েছেন যে মীরা চরিত্রের অনেক গল্প এখনো বাকি ছিল এবং চরিত্রটির পরিণতির জন্য তিনি নিজেও অধীর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ তাঁকে আর দেওয়া হয়নি, যা একজন শিল্পীর জন্য অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা।
আরও পড়ুনঃ পুরনো ক্ষো’ভের নতুন বিস্ফোরণ! নতুনের ওপর অনর্থক রেগে আগুন কমলিনী! ঘটে গেল বিরাট অঘটন! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরিশেষে তন্নি জানিয়েছেন যে তাঁর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে জীবনের এক নতুন পাঠ শিখিয়েছে। বর্তমানে তিনি কোনো কাজ ছাড়াই বাড়িতে একা সময় কাটাচ্ছেন এবং নিজেকে চেনার চেষ্টা করছেন। তবে এই বিতর্ক সহজে থামার নয়; সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকরা দাবি তুলেছেন যে, হয় মীরাকে ফিরিয়ে আনতে হবে নতুবা এই ধারাবাহিক বয়কট করা হবে। একজন অভিনেত্রীর কেরিয়ার নিয়ে এমন ‘খামখেয়ালি’ সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, সেই উত্তর এখন খুঁজছে বাংলার দর্শক। তন্নি কি তবে অপমানের বদলা নিতে অন্য কোনো বড় চ্যানেলের হাত ধরবেন নাকি প্রযোজক হিসেবে নতুন কোনো চমক দেবেন, সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে। আপাতত মীরা বিহীন এই মেগা সিরিয়াল দর্শকদের কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

