ভালোবাসার চেয়েও বড় আত্মসম্মান! রায়ানের গোলাপ ফিরিয়ে দিয়ে চরম বিপদে পারুল! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে ঘেরা এই রহস্যময় পরিস্থিতির মাঝেও রায়ান ও পারুলের ব্যক্তিগত রসায়ন এক নতুন মাত্রা পায়। হোটেলের বদ্ধ ঘরে পারুল যখন পোশাক পরিবর্তন করছিল, রায়ানের মুগ্ধ দৃষ্টিতে তার প্রতি এক গভীর আকর্ষণ ফুটে ওঠে। বাথটাবের কাছে আকস্মিকভাবে তারা একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে এলে এক মুহূর্তের জন্য সময় থমকে যায়। তবে এই রোমান্টিক আবহে আচমকা ছন্দপতন ঘটে যখন ছদ্মবেশে অনিরুদ্ধ রায়ানের সামনে এসে দাঁড়ায়। রহস্যময় এই আগন্তুক রায়ানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায় যে, তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি হলে তার ফল হবে ভয়াবহ। অনিরুদ্ধর এই প্রচ্ছন্ন হুমকি রায়ানের মনে নতুন করে শঙ্কা ও অস্থিরতার জন্ম দেয়।

রায়ান দ্রুত পারুলকে সবটা জানালে তারা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতে যায়। কিন্তু হোটেলের কর্মীরা জানায় যে জঙ্গল এলাকায় প্রযুক্তি অচল, উল্টো তারাও স্থানীয় দেবীর ক্ষোভের ভয় দেখায়। কৌতূহলবশত তারা সেই স্থানে গেলে গা-ছমছমে পরিবেশ দেখে ভয়ে শিউরে ওঠে। ভয় আর রহস্যের এই গুমোট পরিস্থিতির মাঝেই রায়ান স্থির করে সে পারুলকে সারপ্রাইজ দেবে।

Bengali serial

সে একটি লাল গোলাপ নিয়ে পারুলের সামনে দাঁড়িয়ে খুব সাধারণভাবে বলে, “এই নে, এইটা তোর জন্য।” কিন্তু রায়ানের এই সহজ স্বীকারোক্তি পারুলের কাছে একটি নিষ্ঠুর পরিহাস বলে মনে হয়। তাদের সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের মাঝে এই গোলাপ তাকে আবেগপ্রবণ করার বদলে ক্ষুব্ধ করে তোলে। পারুল রেগে গিয়ে গোলাপটি ছুঁড়ে ফেলে দেয় এবং রায়ানের প্রতি তার জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেয়। পারুলের এই রূঢ় আচরণে রায়ানও বেশ বিরক্ত ও হতাশ হয়।

পারুল স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, মিথ্যে নাটক করে তার প্রত্যাশা বাড়ানো রায়ানের উচিত নয়। সে স্পষ্টভাবে বলে দেয়, তার কাছে ভালোবাসার চেয়েও আত্মসম্মান অনেক বেশি মূল্যবান। নিজের মর্যাদা রক্ষার তাগিদে রায়ানকে ওখানেই ফেলে রেখে রাগে আর অভিমানে পারুল সেখান থেকে দ্রুত পায়ে চলে যায়।

আরও পড়ুনঃ বাংলার “দুগ্গামণি” এবার বিশ্বমঞ্চে! দেশ ছাড়িয়ে এবারে বিদেশে কাজের সুযোগ! সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল ছোট্ট অভিনেত্রী রাধিকা কর্মকার!

রায়ানের দিক থেকে এটি একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা হলেও পারুলের চোখে তা ছিল স্রেফ একটি সাজানো অভিনয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ঠিক তখনই, যখন একাকী পারুল রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। আগে থেকে ওত পেতে থাকা শিরিন ও সংযুক্তার লোকেরা। তারপরই পারুলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার মুখ চেপে ধরে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পারুল নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাদের শক্তির কাছে হার মানে। অন্ধকারে পারুলের আর্তনাদ হারিয়ে যায়, আর আড়াল থেকে শিরিন ও সংযুক্তা তাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেখে ক্রূর হাসিতে মেতে ওঠে। গল্পের মোড় এবার এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঘুরে যায়।

Back to top button