‘সারেগামাপা আমাকে নাম দিয়েছে, কিন্তু…’ ‘ওনার কথা বলতে গেলেই চোখে জল চলে আসে…’ ‘৯ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েছি, এই রিয়ালিটি শো আমাকে গান শেখায়নি বরং…!’ সারেগামাপা এর মঞ্চ থেকে জীবনের লড়াই! অকপটে পৌষালী ব্যানার্জি!

জি বাংলা (Zee Bangla) সারেগামাপার (Saregamapa) জনপ্রিয় শিল্পী পৌষালী ব্যানার্জী (Poushali Banerjee) সম্প্রতি তাঁর সঙ্গীত জীবনের চড়াই-উতরাই নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠ চুকিয়ে কীভাবে তিনি গ্ল্যামার দুনিয়ার এই রিয়েলিটি শো-তে পা রাখলেন, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার মাস্টার ডিগ্রি কমপ্লিট হলো শান্তিনিকেতন থেকে, তারপর আমি জি বাংলা সারেগামাপার অডিশন দিতে গেলাম।” তাঁর কাছে সেই অডিশন পর্বটি ছিল জীবনের এক বড় পরীক্ষা, যেখানে তিনি নিজের লোকসঙ্গীতের ঝুলি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।
প্রতিযোগিতার সেই দিনগুলোর কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পৌষালী জানান যে, তিনি সবসময় নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতেন। তিনি সগর্বে বলেন, “আমি কিন্তু খুব কনফিডেন্টলি সারেগামাপার অডিশন দিয়েছিলাম এবং সেই জার্নিটা শুরু করেছিলাম।” এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে প্রতিযোগিতার কঠিন ধাপগুলো পার করতে সাহায্য করেছিল। তাঁর মতে, রিয়েলিটি শোর মঞ্চে কেবল গান জানা নয়, বরং মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকাটাও অত্যন্ত জরুরি ছিল, যা তাঁকে বিচারকদের সামনে সাহসের সাথে গান গাইতে সাহায্য করেছে।
সারেগামাপার মঞ্চ তাঁকে যে পরিচিতি দিয়েছে, সে বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পৌষালী বলেন, “সারেগামাপার পরে বাংলার মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করলো, ভালোবাসা দিতে শুরু করলো।” তিনি মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্মটি না থাকলে মাটির গান নিয়ে এত মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানো হয়তো সম্ভব হতো না। এই মঞ্চই তাঁকে সাধারণ এক শিল্পী থেকে আজকের ‘পৌষালী ব্যানার্জী’ হিসেবে এক অনন্য ব্র্যান্ডে রূপান্তর করেছে, যার ফলে তিনি আজ দেশ-বিদেশে বাংলার লোকগানকে পৌঁছে দিতে পারছেন।
শান্তিনিকেতনের উচ্চশিক্ষিত গায়িকা হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ এক প্রতিযোগীর মতো তাঁকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি কিন্তু ৯ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সারেগামাপার অডিশন দিয়েছিলাম।” সেই হাড়ভাঙা খাটুনি, শারীরিক ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ভিড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা ছিল তাঁর ধৈর্যের এক চরম পরীক্ষা। পৌষালী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই রিয়ালিটি শো তাঁকে কেবল গান গাইতে শেখায়নি, বরং শিখিয়েছে জীবনমুখী পেশাদারিত্ব। তিনি সগর্বে উল্লেখ করেন, “সারেগামাপা আমাকে গান গাইতে শেখায়নি, গান আমি শিখেছিলাম আমার গুরুদের কাছে এবং শান্তিনিকেতন থেকে; সারেগামাপা আমাকে শিখিয়েছে পারফরম্যান্স এবং প্রফেশনালিজম।”
আরও পড়ুনঃ এবার আর গায়িকা নয়, এক্কেবারে নতুন রূপে পদার্পণ! নতুন পরিচয় নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত ইমন চক্রবর্তী!
সবশেষে তিনি বলেন, বাংলার লোকসঙ্গীত গানকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “লোকসঙ্গীতকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধটা সারেগামাপার পরে আরও বেশি তীব্র হয়েছে।” তাঁর কাছে এই সঙ্গীত কেবল শখ নয়, বরং জীবনের ব্রত। সারেগামাপার সেই অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করেই তিনি আজ বাংলার মাটির গানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন এবং লোকগানকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছেন।

