হানিমুন নাকি মৃ’ত্যুফাঁদ? সাজানো বাসর ঘরে রায়ান পারুলের জন্য খু’নের ছক তৈরি কষলো সংযুক্তা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, এতসব নাটক আর নিয়মকানুন দেখে পারুলের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। তার মনে হতে থাকে, কোথাও গন্ডগোল আছে। কোনো সাধারণ উকিল বা কোর্ট এভাবে হানিমুনের হুকুম দিতে পারে না।
পারুল ও রায়ানের মনে আদালতের নির্দেশগুলো নিয়ে গভীর সন্দেহ দানা বাঁধে। তাদের মনে হয়, এমন কোনো আইনের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব এবং নির্দেশগুলো আসলে সাজানো বা মিথ্যে। এই রহস্যের সমাধান করতে তারা দুজনে মিলে সরাসরি আদালতে গিয়ে আসল সত্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে বাড়ির বাকি সদস্যরা যখন বুঝতে পারে যে পারুল আর রায়ান তাদের পরিকল্পনা সন্দেহ করছে, তখন তারা বেশ ঘাবড়ে যায়। কীভাবে এই দুজনকে আটকানো যায় বা সত্যিটা ধামাচাপা দেওয়া যায়, তা নিয়ে তারা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এরই মধ্যে রায়ানের বাবা আচমকা নতুন করে থিয়েটার করার একটা বড় সুযোগ পান এবং সেই উত্তেজনায় সব ফেলে অভিনয়ের টানে সেদিকেই ছোটেন।

এরপর সত্যিটা কী, তা জানতেই পারুল রায়ান দুজনেই সরাসরি কোর্টে গিয়ে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পারুল যখন কোর্টে পৌঁছায়, তখন সেখানে চলছিল অন্য কাণ্ড। ভেতরের ঘরে পরিতোষ কাকু, ব্রততী আন্টি আর তাদের পুরো টিম মিলে চুটিয়ে নাটকের রিহার্সাল দিচ্ছিল। আসলে তারা কোর্ট রুম সাজিয়ে একটা বড়সড় নাটকই করছিল। দরজা বন্ধ করে তারা যখন মনের আনন্দে মহড়া দিচ্ছে, ঠিক তখনই পারুল রায়ান সেখানে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে।
ওদিকে রায়ান ও পারুল যখন আদালতের সত্যতা যাচাই করতে বের হয়, তখন রায়ানের মা এবং টগর তাদের পিছু নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সত্য ফাঁস হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। ওদিকে আদালতের এক সদস্য তাদের দেখে ফেলে দ্রুত বাড়িতে খবর পাঠিয়ে দেয়। তড়িঘড়ি করে বাড়িতেই একটি ভুয়া কোর্ট রুম সাজিয়ে তোলা হয় এবং এমন অভিনয় করা হয় যেন সত্যিই কোনো বিচার চলছে। পারুল ও রায়ানের মনে সামান্য সন্দেহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা এই নিখুঁত অভিনয় বিশ্বাস করে নিতে বাধ্য হয়। আদালতের সেই সাজানো নির্দেশে তাদের দুজনকে পাঠানো হয় হানিমুনে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরা কারোর ছত্র-ছায়ায় বাঁচি না!’ ‘আমার ছেলে প্রচণ্ড…স্বার্থে ঘা লাগায় ওরা ওর কাজ কেড়ে নিয়েছে!’ অকপটে অভিনেত্রী রেশমী সেন!
হোটেলে পৌঁছে তারা আলাদা দুটি বিছানাওয়ালা ঘর চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে কেবল একটি ‘কাপল রুম’ই খালি ছিল। বাধ্য হয়ে সেই ঘরে ঢুকেই তাদের চক্ষু চড়কগাছ। পুরো ঘরটি আগে থেকেই গোলাপের পাপড়ি আর রোমান্টিক আলোয় সাজানো যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল কেউ একজন তাদের আগমনের কথা আগে থেকেই জানত। এই রহস্যময় প্রস্তুতির পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায় তারা। আনন্দের আবহেও তাদের মনে এক অজানা আশঙ্কার কালো মেঘ জমে।
অন্যদিকে, অন্ধকারের আড়ালে সংযুক্তা ও শিরিন ছদ্মবেশে একই গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়। সংযুক্তার শীতল ও নিষ্ঠুর পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। তার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য ছিল। আগামীকালের সংবাদপত্রের পাতায় রায়ানা ও পারুলের নির্মম মৃত্যুর খবরই হবে প্রধান শিরোনাম। পারুল আর রায়ানা যখন জীবনের এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই তাদের অজান্তে ঘনিয়ে আসছে এক চরম বিপদ।

