ভোরের আদিখ্যেতা সহ্য করতে পারছে না কমলিনী! নতুন-ভোরের যুগলবন্দি গান শুনে চোখে জল নায়িকার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

স্টার জলসা (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকে গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ঘরোয়া আড্ডার আমেজে নতুন ও যাজ্ঞসেনী মিলে বেশ গুছিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। হাসিখুশি সেই আলাপচারিতার মাঝেই হঠাৎ সেখানে কমলিনীর আবির্ভাব ঘটে। নতুন ও যাজ্ঞসেনীকে এতটা অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে কমলিনী স্পষ্টতই বিরক্ত হয়। সে বেশ কিছুক্ষণ দূর থেকে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করছিল, কীভাবে নতুন ভোরের হাত ধরে তাকে উৎসাহ দিচ্ছে এবং পরম মমতায় কথা বলছে। এই দৃশ্য কমলিনীর মনে গভীর আঘাত দেয়, যা তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে।
সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে কমলিনী সামনে এসে ভোরের এই ‘অনর্থক বাড়াবাড়ি’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শুরু করে। সে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বুঝিয়ে দেয় যে, ভোরের আচরণ শালীনতার সীমা অতিক্রম করছে। নতুনের সাথে কমলিনীর সম্পর্কের সমীকরণ যাই হোক না কেন, ভোরের এমন অযাচিত অধিকার বোধ বা আদিখ্যেতা যে কেবল কমলিনীর কাছে নয়, বরং যে কেউ দেখলে বিরক্ত হবে, তা সে সরাসরি জানিয়ে দেয়। ভোরের প্রতি তার এই রুক্ষ আচরণে ঘরের পরিবেশ মুহূর্তেই থমথমে হয়ে ওঠে।
কমলিনীর এমন আক্রমণাত্মক কথায় ভোর অবাক হলেও সরাসরি মুখে কিছু বলতে পারে না। তবে সে নতুনকে আড়ালে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, কমলিনীর কথাগুলো তাকে যথেষ্ট ব্যথিত করেছে এবং কমলিনীর উচিত ছিল ভেবেচিন্তে কথা বলা। নতুন পরিস্থিতি সামাল দিতে একে ‘ইয়ার্কি’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভোর তাতে দমে যায়নি। সে পালটা জানায় যে, সব সময় ইয়ার্কি ভালো লাগে না এবং কমলিনীর জানা উচিত কোন কথাটা কৌতুকের ছলে বলা যায় আর কোনটা নয়। এরপরই ক্ষুব্ধ ভোর সেখান থেকে চলে যায়।
নতুন মনে মনে ভালো করেই জানত যে কমলিনী কথাগুলো মোটেও মজার ছলে বলেনি। কমলিনীর এই হঠকারী আচরণের সঠিক কারণ খুঁজে না পেয়ে সে কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। কেন সে হঠাৎ এতটা কঠোর হয়ে উঠল, তা বুঝতে নতুন ঠিক করে যে সে আলাদাভাবে কমলিনীর সাথে কথা বলবে। তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মাঝে ভোরের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেন এই তিক্ততা বাড়ছে, সেই সত্যটা সে কমলিনীর মুখ থেকেই শুনতে চায়।
আরও পড়ুনঃ ফের অতীতের সাক্ষী ব্রজধাম! নিজের অধিকার দাবিতে বাবা-মাকে নিয়ে হাজির পুলস্ত্য! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরদিন সন্ধ্যায় নতুনের ইনস্টিটিউটে ‘ভালোবাসা দিবস’ উপলক্ষ্যে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে পরিবারের সকলেই উপস্থিত ছিল। নাচ-গানের সেই আনন্দঘন সন্ধ্যায় নতুন ও ভোর যখন একসাথে গান গাইতে শুরু করে, তখন দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কমলিনীর চোখে জল চলে আসে। সে নতুনকে হারিয়ে ফেলার এক অজানা আশঙ্কায় কুঁকড়ে যায়। কমলিনী বুঝতে পারছে না যে, ভোরের সাথে নতুনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তার এই অহেতুক সন্দেহ বা ধারণা আসলে তাদের নিজেদের সম্পর্কেরই অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলছে।

