‘অভিনয় ছেড়ে দেবো…রোজ কাঁদতাম!’ ‘বাবা রোজ বকাবকি করত…’ অপমান আর লাঞ্ছনা সয়েই সাফল্যের শিখরে নন্দিনী দত্ত!

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ নন্দিনী দত্ত (Nandini Dutta)। বর্তমানে ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকে বনলতা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু এই সাফল্যের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। একসময় অভিনয়ের দুনিয়া থেকে চিরতরে নিজেকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয় জীবনের সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেত্রী।

বর্তমানে নন্দিনী ব্যস্ত তার জনপ্রিয় ধারাবাহিক কনে দেখা আলো নিয়ে। সেখানে তার অভিনীত বনলতা চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নন্দিনীর মতে, চরিত্রটি কিছুটা ধূসর এবং বাস্তবসম্মত। তিনি মনে করেন, একজন মানুষ জীবনে ভুল করতেই পারে, আর সেই মানবিক ত্রুটিগুলোই বনলতা চরিত্রের মাধ্যমে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নন্দিনী কোনোদিন অভিনেত্রী হতে চাননি। ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল একজন আইনজীবী হওয়ার। নাচ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও তৈরির শখ ছিল তার। সেখান থেকেই অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী তাকে প্রথম অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। শুরুতে খুব একটা সিরিয়াস না থাকলেও মায়ের উৎসাহে অডিশন দিতে শুরু করেন তিনি। স্টার জলসার এখানে আকাশ নীল ধারাবাহিকের মাধ্যমে তার প্রথম পর্দায় আসা।

এরপর ‘শ্রী রামকৃষ্ণ’ এবং ‘বসন্ত বিলাস’-এর মতো ধারাবাহিকে কাজ করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। নন্দিনীর এই যাত্রায় তার পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে তার বাবা, যিনি নিজে ছোট থেকে অনেক পরিশ্রম করে জীবন গড়েছেন, তিনি নন্দিনীকে শিখিয়েছেন ঠেকে শেখার গুরুত্ব। তার মা তাকে সবসময় জগত সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলেন, কারণ নন্দিনী খুব দ্রুত মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকে যান।

তবে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী একসময় অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন বাড়ি এসে রোজ কাঁদতেন। কেন অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন নন্দিনী? এখানে আকাশ নীল ধারাবাহিকে কাজ করার সময় নন্দিনী ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারেই নতুন বা ‘নিউকামার’। সেই সময় সেটের পরিবেশ তার জন্য খুব একটা অনুকূল ছিল না। নতুন অভিনেতা হওয়ার কারণে প্রায়ই তাকে কঠোর ট্রিটমেন্টের মুখোমুখি হতে হতো।

আরও পড়ুনঃ লোকলজ্জা ভুলে নতুনের বাহুবন্ধনে ভোর! স্বামীর সঙ্গে অন্য নারীকে একসঙ্গে সত্যে রূপান্তরিত হলো কমলিনীর সন্দেহ! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

ছোটখাটো ভুলের জন্য পরিচালক বা ক্রিয়েটিভ টিমের পক্ষ থেকে তাকে প্রচণ্ড বকাবকি করা হতো। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি রোজ মেট্রোতে বা বাড়িতে ফিরে অঝোরে কাঁদতেন। তীব্র অভিমান আর অপমানে তিনি ভেবেছিলেন, ‘আমি আর অভিনয়ই করব না, এটা আমার জন্য নয়।’ তবে দমে না গিয়ে সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ তিনি সাফল্যের এই শিখরে পৌঁছেছেন। তার এই লড়াই নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

Back to top button