‘সন্তান তো দুজনেরই, তাই তার দায়িত্বও দুজনকেই নিতে হবে, বিচ্ছেদের পর একলা ফেলে পালালে চলবে না…’ বিচ্ছেদ ও অ্যালিমানি নিয়ে স্পষ্টবক্তা পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়!

বর্তমান সময়ে বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই তা নিয়ে আইনি জটিলতা ও সামাজিক বিতর্কও পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি একটি টক শো-তে ডিভোর্সের পর খোরপোশ বা অ্যালিমনি সংক্রান্ত নতুন আইনি ভাবনা নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শোতে পিঙ্কি এই নিয়ে মুখ খুলেছেন। ভিডিওটিতে পিঙ্কিকে বলতে শোনা যায়, যদি কোনো নারী আর্থিকভাবে স্বাধীন এবং স্বনির্ভর হন, তবে বিচ্ছেদের পর স্বামীর থেকে খোরপোশ নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, ‘এটার ভালো-খারাপ দুদিকেই রয়েছে। মানে এই আইনটা নিয়ে ডেফিনেটলি আমি এটার পক্ষেই যাব… বউ যদি সক্ষম হয় তাকে আপনি অ্যালিমনি নাও দিতে পারেন।’
তবে পিঙ্কি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, স্ত্রীর ভরণপোষণ আর সন্তানের দায়িত্ব এক নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাচ্চার জন্য কিন্তু এখনো সেটা সে ক্লেইম করতে পারে… একটা সন্তান তো দুজনের জন্যই হয়। বাচ্চার দায়িত্ব কিন্তু কিছুটা অংশ যাতে বাবা নেয় বা মা মিলে নেয়।’
অভিনেতা ও বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের সাথে পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং আইনি লড়াই কারোরই অজানা নয়। শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গে কাঞ্চনের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ সময় আলাদা থাকার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বিচ্ছেদের সময় কাঞ্চন মল্লিকের থেকে এককালীন ৫৬ লক্ষ টাকা খোরপোশ নিয়েছিলেন পিঙ্কি। তবে এই বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধলে পিঙ্কি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এই টাকা তাঁর নিজের ব্যক্তিগত বিলাসিতার জন্য নয়, বরং সম্পূর্ণটাই তাঁদের সন্তান ওশের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতের জন্য ব্যয় করা হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘জিতু কমল এখন প্রাক্তন…আমার কাছে আর কোন মূল্য নেই!’ অভিনয় থেকে দূরে গিয়ে বেছে নিয়েছেন শান্ত জীবন! প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে কি বললেন নবনীতা দাস?
কাঞ্চন মল্লিকের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই শ্রীময়ী চট্টরাজের সাথে কাঞ্চনের নাম জড়িয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জেরে থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল তাঁদের দাম্পত্য বিবাদ। অবশেষে বিচ্ছেদের মাসখানেকের মধ্যেই কাঞ্চন তাঁর তৃতীয় বিবাহ সম্পন্ন করেন। পিঙ্কির এই সাম্প্রতিক মন্তব্য যেন তাঁর নিজের জীবনের লড়াইয়েরই প্রতিধ্বনি। স্বনির্ভরতাকে গুরুত্ব দিলেও সন্তানের অধিকারের প্রশ্নে যে তিনি আপসহীন, তা আবারও প্রমাণিত হলো তাঁর বক্তব্যে।

