‘দামি পুরস্কার পেতে গেলে রাজনীতি করতে হয়, আমি অক্ষম…’ ‘আমার পরিচয় প্রায় মুছতে চলেছে, এখন আমি শুধুই…’ ইন্ডাস্ট্রির রূঢ় বাস্তব তুলে ধরলেন ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) কি এখন কেবল লবিবাজি আর স্টার কিড-দের চারণভূমি? দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবন পেরিয়ে এসে কি একজন দক্ষ অভিনেতার নিজস্ব পরিচয় কেবল কারোর বাবা হিসেবেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রবীণ অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় (Falguni Chatterjee)। তাঁর প্রতিটি শব্দ যেন টলিউডের গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা এক তিক্ত সত্যকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।
বাংলার নাট্যজগত থেকে শুরু করে রূপালি পর্দা সর্বত্রই ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় এক পরিচিত নাম। কিন্তু এত বছর কাজ করার পর তিনি যে অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন বর্তমানের পুরস্কার প্রদান পদ্ধতির দিকে। তাঁর মতে, আজ আর কেবল প্রতিভা দিয়ে বড় কোনো সম্মান বা পুরস্কার পাওয়া সম্ভব নয়।
ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘দামি পুরস্কার পেতে গেলে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের লবি থাকা দরকার।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি নিজে এই ধরণের লবিং বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত অক্ষম। তাঁর এই সপাটে মন্তব্য ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দলাদলি আর রাজনীতির যোগসূত্রকে আরও একবার নগ্ন করে দিল। তিনি আক্ষেপ করে জানান, যদি তিনি কখনও কোনো বড় পুরস্কার পেতেন, তবে হয়তো আজ এই সত্যটা জনসমক্ষে বলতে পারতেন না। তাঁর এই সততা পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে দেয় তবে কি যোগ্য শিল্পীরা লবিং-এর অভাবে আজও ব্রাত্য? এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে কেবল অভিনয় দক্ষতা বা প্রতিভা দিয়ে বড় কোনো সম্মাননা বা রাষ্ট্রীয় স্তরের পুরস্কার পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে সাক্ষাৎকারে আরও একটি বিষয়ে নিজের দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। আজ ঘরে ঘরে আবির চট্টোপাধ্যায় এক সুপারস্টার। কিন্তু আবিরের সাফল্যের ছায়ায় কি ঢাকা পড়ে যাচ্ছেন তাঁর বাবা ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়? অভিনেতা নিজেই জানালেন সেই কষ্টের কথা।
তিনি বলেন, ‘আবির চ্যাটার্জির বাবা এটা লোকে প্রথম বলে… এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন বুঝে গেছি যে আমার পরিচয়টা প্রায় মুছতে চলেছে।’ দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নিজের একটা আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি, কিন্তু আজ সমাজ বা সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি কেবল আবিরের বাবা। সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয় যখন তিনি প্রশ্ন তোলেন ইন্টারভিউয়ারদের মানসিকতা নিয়ে। তিনি বলেন, তাকে যখন কোনো অনুষ্ঠানে বা সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়, সেখানেও ঘুরেফিরে সব প্রশ্নই কেন আবিরকে কেন্দ্র করে করা হয়? তাঁর ক্ষোভের সুর স্পষ্ট, ‘সব প্রশ্নগুলো আবির কেন্দ্রিক কেন? তাহলে আবিরকেই ডাকতেন।’ একজন সিনিয়রের সম্মান ও তাঁর নিজের কাজের মূল্যায়ন না করে কেবল তাঁর তারকাসন্তানকে নিয়ে কৌতূহল দেখানো যে কতটা অসম্মানজনক হতে পারে, ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে তা পরিষ্কার।
আরও পড়ুনঃ ‘ওনার অফিসে গিয়ে…অভদ্রতামি করেছেন উনি!’ টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালককে ঘিরে বি’স্ফোরক অভিযোগ! মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাসবদত্তা চ্যাটার্জি!
একজন শিল্পী যখন বলেন যে তাঁর নিজস্ব পরিচয় মুছে যাচ্ছে, তখন সেটি কেবল তাঁর একার সংকট নয়, বরং গোটা বিনোদন জগতের রুচির সংকট। ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ঝড় তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। দর্শকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন যোগ্যতার সম্মান কি তবে শুধুই রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল?

