অসম্ভবকে সম্ভব করলো দিতি! বাড়ির সকলকে চমকে দিয়ে গোরার প্রাণ বাঁচিয়ে অসাধ্য সাধন করলো সে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone kori) ধারাবাহিকের প্রতিটা পর্বেই থাকছে টানটান উত্তেজনা পর্ব। পুলস্ত্য যখন কুন্তলীর কাছ থেকে জানতে পারে যে গোরা আর দিতিই তার বাড়ি থেকে সেই রহস্যময় পুঁথিটি উদ্ধার করেছে, তখন সে সবকিছুর যোগসূত্র খুঁজে পায়। ওই পুঁথির অমোঘ আকর্ষণ তাকে বারবার টেনে আনে। তাই সে কুন্তলীকে প্রস্তাব দেয় যে, কোনোভাবে যদি পুঁথিটি তাকে এনে দেওয়া যায়, তবে সে কুন্তলীকে সবরকম সাহায্য করবে। কুন্তলী প্রথমে রাজি হতে চায়নি, কারণ পুলস্ত্য এর আগে দেওয়া কোনো কথাই রাখেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের স্বার্থসিদ্ধির নেশায় সে পুলস্ত্যর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ‘ফুলমুরারি কাব্যের’ দ্বিতীয় খণ্ড খোঁজার নেশায় গোরা ও দিতি বাড়ির লাইব্রেরিতে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে তারা তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে সেই রহস্যের চাবিকাঠি। কিন্তু নিয়তি হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছে, তাই এত সহজে দ্বিতীয় খণ্ডটি পাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই খোঁজাখুঁজির মাঝেই দিতি ও গোরা একে অপরের আরও কাছাকাছি চলে আসে। দিতি মনে মনে গোরাকে ভালোবেসে ফেললেও, গোরা মহাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে থাকে যেন তাকে এমন কঠিন কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তে না হয়।

গোরা ও দিতির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কুন্তলী তাদের ঘরে ঢোকে পুঁথিটি চুরি করার জন্য। কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকায় সে পালানোর আগেই দিতির কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। দিতি সবটা বুঝতে পেরে কোনো কথা না বাড়িয়ে কুন্তলীকে উচিত শিক্ষা দিতে কষিয়ে এক চড় মারে। কিন্তু কুন্তলী দমে যাওয়ার পাত্রী নয় সে সঙ্গে সঙ্গে গোরার কাছে নাকে কান্না জুড়ে দেয়। গোরা কুন্তলীর আসল রূপ চিনতে না পেরে উল্টে দিতিকেই ভুল বোঝে, যার ফলে দিতি ও গোরার মধ্যে প্রবল ঝগড়া বাঁধে।

গোরার ওপর দিতি এতটাই রাগ করে যে সে বিছানা ছেড়ে মেঝেই শুয়ে পড়ে। এদিকে অপমানের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া কুন্তলী গোরার ভাইকে ব্যবহার করে কৌশলে গোরাকে ঘর থেকে বের করে আনে। দিতি যখন একা ঘুমাচ্ছিল, তখন তাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য কুন্তলী এক বিষধর জাত গোখরো সাপ ঘরে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বিধাতার বিধান ছিল অন্যরকম। মেঝেতে ঘুমানো দিতিকে কামড়াতে গিয়ে সাপটি ঘরে ঢোকা গোরার পায়ে ছোবল মারে। নিমেষের মধ্যে গোরার শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তার প্রাণ সংশয় হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুনঃ ঘরশত্রু বিভীষণ! পারুলকে জব্দ করতে শিরিনের সাথে হাত মিলিয়ে বিপদে পড়ল রায়ানের মা! ফাঁস হয়ে গেল সমস্ত সত্যি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

মাঝরাতে গোরার এমন অবস্থা দেখে বাড়ির সবাই দিশেহারা হয়ে পড়ে। সেই নির্জন রাতে কীভাবে গোরাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা ভেবে যখন সবাই আতঙ্কিত, ঠিক তখনই দিতি সবাইকে অবাক করে দেয়। সে বুক ঠুকে বলে যে, সে নিজেই গাড়ি চালিয়ে গোরাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। বাড়ির সবাই জানত গোরা ছাড়া আর কেউ গাড়ি চালাতে পারে না, তাই দিতির এই সাহস দেখে সবাই চমকে যায়। এবারে দেখার অপেক্ষা গোরার জীবন এখন কোন দিকে মোড় নেবে।

Back to top button