ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস! দিতির বদলে বি’ষের জ্বালায় নীল হলো গোরা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!

দাদুর বড় সাফল্যে দিতি তার কাছে একটি আবদার করে বসে সে প্রাচীন ‘ফুলমুরারি’ পুঁথির গল্পটি পড়তে চায়। দাদু খুশি হয়ে পুঁথিটি নাতনির হাতে তুলে দেন এবং ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে তাদের বাড়ির লাইব্রেরির সব দায়িত্ব দিতির। এখন থেকে সে-ই হবে সব দুর্লভ বইয়ের রক্ষক। এদিকে নিজের বাড়ি থেকে পুঁথিটি হারিয়ে গেছে দেখে পুলস্ত্য রাগে অন্ধ হয়ে যায়।
এরপর গোরা দিতিকে পুঁথির বাকি গল্প পড়ে শোনায়। সেখানে দেখা যায়, মুরারি ও ফুল একে অপরকে খুব ভালোবাসত। এরপর এক অদ্ভুত সত্য সামনে আসে। দিতি আর গোরা জানতে পারে, ‘ফুলমুরারি’ আসলে তাদেরই পূর্বজন্মের কাহিনী। শুধু তাই নয়, যে পুলস্ত্য তাদের ক্ষতি করতে চাইছে, সে আসলে গোরার নিজের খুড়তুতো ভাই।
কিন্তু তাদের সমাজে প্রেম বা বিয়ে নিষিদ্ধ ছিল। ফুল লুকিয়ে মুরারির সাথে দেখা করলেও মুরারির খুড়তুতো ভাই তা একদম সহ্য করতে পারত না। কারণ সে নিজেও ফুলকে পেতে চাইত এবং সুযোগ খুঁজত কীভাবে মুরারিকে সরিয়ে ফুলকে নিজের করা যায়।
গল্পটা শুনতে শুনতে গোরা আর দিতি দুজনেই অবাক হয়ে যায়। তাদের মনে হয়, পুঁথির এই পুরনো কাহিনী যেন তাদের নিজেদের জীবনের সাথেই মিলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, কুন্তলী আড়াল থেকে সব শুনে হিংসেয় জ্বলে ওঠে। সে বুঝতে পারে দিতি গোরার প্রেমে পড়ছে।
আরও পড়ুনঃ সম্পর্কের টানাপোড়েনে নতুন মোড়! বন্ধুত্ব ভুলে একে অপরকে কালিমা লিপ্ত করছে ‘চিরসখা’! কমলিনীর শা’রীরিক সম্পর্ক নিয়ে সরব স্বতন্ত্র! নোংরামির দিকে এগোচ্ছে ধারাবাহিকের গল্প, দাবি দর্শকদের!
ঠিক সেই সময় পুলস্ত্য কুন্তলীর ফোন পেয়ে জানতে পারে যে, গোরা আর দিতিই তার বাড়ি থেকে পুঁথিটি উদ্ধার করে এনেছে। সব জেনে পুলস্ত্য বুঝতে পারে কেন ওই পুঁথির গল্প তাকে বারবার টানে। সেই রাতেই ঘটে এক অঘটন। মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা দিতিকে কামড়াতে গিয়ে সাপটি ভুল করে গোরাকে ছোবল মারে। দিতিকে শেষ করে দেওয়ার জন্য সে এক সাপুড়ের কাছ থেকে আনা বিষধর গোখরো সাপ দিতির ঘরে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে গোরার প্রাণ সংশয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পুরনো শত্রুতা আর অলৌকিক রহস্যের জাঁতাকলে পড়ে দিতি ও গোরার জীবন কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।

