‘লজ্জা করে না?’— খাবার খেতে গিয়ে শ্যুটিং সেটে কার হাতে চ’ড় খেয়েছিলেন চন্দন সেন? নিজের জীবন নিয়ে অকপটে অভিনেতা!

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood) অন্যতম একজন অভিনেতা হলেন চন্দন সেন (Chandan Sen)। চন্দন সেনের অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে বাংলা থিয়েটারের হাত ধরে। তিনি বিখ্যাত নাট্যদল ‘নাট্য আনান’-এ সৃজনশীল পরিচালক এবং অভিনেতা হিসেবে যোগদান করেন। থিয়েটারের আঙিনায় তাঁর শক্তিশালী পদচারণা তাঁকে বাংলা নাট্যজগতের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মঞ্চের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রেও সমানভাবে সফল।
ব্যক্তিগত জীবনে চন্দন সেন একজন অত্যন্ত লড়াকু এবং দৃঢ়চেতা মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির সাথে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে তাঁর শিল্পসাধনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি বারংবার মঞ্চে ফিরে এসেছেন, যা অনেক তরুণ শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে অভিনীত বলেন একবার গোস পড়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার কারণে অভিনেতাকে মার খেতে হয়েছিল। অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে একবার শ্যুটিং সেটে দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন চন্দন সেন। খাবার খাচ্ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ করে সেটের এক অভিনেতা তাঁকে সজোরে এক চড় মেরে বসেন। কোনো ঝগড়া বা তর্কের কারণে নয়, বরং চন্দন সেনের করা একটি ছোট্ট কাজ দেখেই। সেদিনের সেই ঘটনাটি চন্দনের কাছে ছিল এক বিরাট ধাক্কা, যা তাঁর পুরো চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছিল। কিন্তু কেন খাবার টেবিলের মাঝখানে এমন অনভিপ্রেত শাসনের মুখে পড়তে হলো তাঁকে?
আসলে খাওয়ার সুবিধার জন্য চন্দন সেন তাঁর নকল গোঁফটি খুলে রেখেছিলেন। এটি দেখেই ওই শিল্পী কড়া ভাষায় তাঁকে অভিনয়ের শৃঙ্খলা শেখান। কিন্তু এমন কাজ কে করেছিলেন চন্দন সেনের সাথে? আর কবেই বা হয়েছিল এমন ঘটনা? তিনি জানান, কিংবদন্তি অভিনেতা বঙ্কিম ঘোষ—যাঁকে তিনি ‘মঙ্গা জেঠু’ বলে ডাকতেন—তাঁর থেকে অভিনয়ের এক অমূল্য পাঠ পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ইন্টারভিউ চলাকালীন হুট করেই মেজাজ হারালেন ‘পরিণীতা’র রায়ান! ক্যামেরার সামনেই সহ অভিনেত্রীর গায়ে হাত তুললেন নায়ক? উদয় প্রতাপ সিং-এর ব্যবহারে অবাক দর্শক!
অভিনেতা বলেন, ‘আমি গোঁফ খুলে লাঞ্চ খাচ্ছিলাম, সে পিঠে একটা ৮২ সিক্কার মারলেন। বললেন—‘সন্ধ্যার ছেলে, লজ্জা করে না গোঁফ খুলে খাচ্ছিস?’ আমি তাকিয়ে রয়েছি। তখন তিনি আমাকে শিখিয়ে দিলেন ‘গোঁফ পরে যখন খাওয়ার পার্ট থাকবে, তখন কি গোঁফ খুলে খাবি? সকালবেলা গোঁফ পড়বে, ব্যাকআপ বললে তবেই গোঁফ খুলবে, তার আগে নয়।’ আমি এই ধরনের মাস্টারমশাইদের পেয়েছি আর সেটা আমার একটা খুব বড় সৌভাগ্য।’

