ফুল-মুরারিই কি এই জন্মে দিতি-গোরা? পুরনো পুঁথির পাতায় লুকিয়ে কোন রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

বিপদের মুখে দিতি পিছু হটতে জানে না। যখন দালালের লোকেরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, তখন গোরার মধ্যে এক অলৌকিক ও সংহারী শক্তির প্রকাশ ঘটে। সে একাই সমস্ত আক্রমণকারীকে পরাস্ত করে চেয়ারের সাথে বেঁধে ফেলে। এরপর দিতি বুদ্ধিমত্তার সাথে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখালে দালাল প্রাণের ভয়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, সে রহস্যময় পুঁথি দুটি পুলস্ত্যর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এই ঘটনার পর দিতির মনে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, তাদের জীবনের প্রতিটি মোড়ে কেন পুলস্ত্যর নাম জড়িয়ে যাচ্ছে।
হারানো পুঁথি উদ্ধার করতে দিতি ও গোরা এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। তারা সরকারি কর্মসংস্থানের লোক সেজে ছদ্মবেশে পুলস্ত্যর বাড়িতে প্রবেশ করে। অন্যদিকে, দালালের লোকগুলো ছাড়া পেয়েই পুলস্ত্যকে ফোন করে সব জানিয়ে দেয়। সতর্ক হয়ে পুলস্ত্য তার বাবা-মাকে ফোন করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু সম্ভবত দৈব ইচ্ছায় তার কোনো প্রচেষ্টাই কাজে লাগে না। তাদের পৌঁছানোর আগেই দিতি ও গোরা নিজেদের কাজ শেষ করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পুঁথি দুটি উদ্ধার করে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।
বাড়িতে ফিরে দিতি যখন দাদুর হাতে বহু প্রতীক্ষিত পুঁথি দুটি তুলে দেয়, তখন দাদুর আনন্দের সীমা থাকে না। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে দিতি ও গোরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলবে। অন্যদিকে, কুন্তলা তাদের এই সাফল্যে মনে মনে অত্যন্ত ঈর্ষান্বিত ও ক্ষুব্ধ হয়। সে বারবার চেষ্টা করেও দিতি আর গোরাকে আটকাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার পরাজয়ের গ্লানি আরও বেড়ে যায়।
দাদুর এই সাফল্যে দিতি তার কাছে একটি আবদার জানায়; সে ‘ফুলমুরারি’ পুঁথির গল্পটি পড়তে চায়। দাদুও খুশি হয়ে পুরস্কার স্বরূপ পুঁথিটি দিতির হাতে তুলে দেন এবং ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে গোস্বামী বাড়ির লাইব্রেরির সমস্ত দায়িত্ব দিতির। এখন থেকে সে-ই হবে সমস্ত দুষ্প্রাপ্য বই ও পুঁথির রক্ষক। এদিকে পুলস্ত্য বাড়িতে ফিরে যখন দেখে পুঁথি চুরি হয়ে গেছে, তখন তার রাগের আর অন্ত থাকে না।
আরও পড়ুনঃ শিরিনকে বন্দি করে পিসিমণির হদিস পেল পারুল! সমরেশের ষ’ড়যন্ত্রের পর্দাফাঁ’স! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
শেষে এক চাঞ্চল্যকর সত্য সামনে আসে। দিতি ও গোরা জানতে পারে যে, ‘ফুলমুরারি’ আসলে তাদের দুজনেরই পূর্বজন্ম বা রূপক কাহিনী। আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই পুলস্ত্য আসলে গোরার নিজের খুড়তুতো ভাই। এই পারিবারিক শত্রুতা এবং অলৌকিক রহস্যের বেড়াজালে দিতি ও গোরার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

