সংসারের অশান্তির মাঝেই আগন্তুকের আনাগোনা! স্বতন্ত্র কমলিনীর জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকের আজকের পর্ব হতে চলেছে জমজমাট। হাসপাতালের গুমোট পরিবেশে নতুন ও কমলিনীর মধ্যে এক তিক্ত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। কঠিন এই সময়ে নতুন আশা করেছিল কমলিনী তার মানসিক অবলম্বন হয়ে পাশে দাঁড়াবেন, কিন্তু সন্তানদের চিন্তায় মগ্ন কমলিনী অজান্তেই নতুনকে উপেক্ষা করে যাচ্ছিলেন। নিজের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছেন—এই অভিমানে নতুন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং হাসপাতালের করিডোরেই সবার সামনে তাদের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। নতুনের এই আকস্মিক মেজাজ হারানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্বস্তিকর করে তোলে।
উপস্থিত সকলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে নতুন ও কমলিনী হাসপাতালের ক্যান্টিনে গিয়ে বসেন। সেখানে তারা মনের জমে থাকা কথাগুলো খুলে বলেন এবং একে অপরের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর মান-অভিমান মিটিয়ে তারা স্থির করেন যে সম্পর্কের এই তিক্ততা আর বাড়তে দেবেন না। এই মিটমাটের পর স্বতন্ত্র নিজের কর্মস্থল অর্থাৎ ইনস্টিটিউটে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ইনস্টিটিউটে স্বতন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছিল এক বিশেষ চমক। তার এক অনুরাগী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তার দেখা পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। স্বতন্ত্রের শুধুমাত্র পেশাদারিত্ব নয়, বরং মানুষ হিসেবে তার আদর্শ ও ব্যক্তিত্বের প্রতি ছিল সেই ভক্তের অগাধ শ্রদ্ধা। অবশেষে প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পেয়ে তিনি আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন এবং জানান যে কীভাবে বছরের পর বছর ধরে তিনি স্বতন্ত্রকে অনুসরণ করছেন ও তার থেকে জীবনের শিক্ষা নিচ্ছেন। ভক্তের এই অকপট শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা স্বতন্ত্রকে গভীরভাবে আপ্লুত করে।
পরের দিন স্বতন্ত্র ও কমলিনী মিলে মিঠিকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। অসুস্থ মিঠি বাড়ি ফিরতেই পরিবারের সবাই তাকে ঘিরে ধরে সেবায় মেতে ওঠে। এমনকি বর্ষাও নিজের স্বভাবজাত তিক্ততা ভুলে আপাতদৃষ্টিতে ভালো মানুষের মতো আচরণ করতে শুরু করে। তবে শান্তির এই আবহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি নতুন ও কমলিনীর মধ্যে আবারও নতুন করে বিবাদের সূত্রপাত হয়। কমলিনীর প্রতিটি কথা ও কাজ নতুনের কাছে নেতিবাচক মনে হতে থাকে, যা ঝামেলার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দেয়।
আরও পড়ুনঃ পুঁথির খোঁজে পুলস্ত্যর বাড়িতে ছদ্মবেশে হাজির দিতি-গোরা! তাদের জন্য লুকিয়ে আছে কোন বিপদ? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
পারিবারিক এই অশান্তির মাঝেই ইনস্টিটিউট থেকে সেই অনুরাগী মেয়েটির ফোন আসে। একটি জরুরি মিটিংয়ের অছিলায় সে স্বতন্ত্রকে বারবার ইনস্টিটিউটে আসার অনুরোধ জানায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্রের পক্ষে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না, তাই সে অপারগতা প্রকাশ করে। তখন মেয়েটি নিজেই স্বতন্ত্রের বাড়িতে আসার আবেদন জানায়। স্বতন্ত্র উদারভাবে তাকে স্বাগত জানিয়ে বলে যে তার বাড়িতে যে কেউ যেকোনো সময় আসতে পারে। এই নতুন উপস্থিতি পারিবারিক সমীকরণে কী পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

