‘কয়েক বছরের মধ্যে বাংলায় আর কিছু থাকবে না! গান গাওয়ার ইচ্ছেটাই চলে গিয়েছে’— ইন্ডাস্ট্রির দশা নিয়ে কেন এমন বললেন লোপামুদ্রা?

বাংলা আধুনিক গানের জগতে তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠান। যাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকে আট থেকে আশি। সেই লোপামুদ্রা মিত্রের (Lopamudra Mitra) গলায় এবার শোনা গেল একরাশ অভিমান ও আশঙ্কার সুর। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বর্তমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ‘জঘন্য’ দশা এবং নতুন প্রজন্মের বাংলা বিমুখতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শিল্পী। এমনকি বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের সংগীত চর্চা এবং তাঁদের রুচি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লোপামুদ্রা জানান, এখনকার ছেলেমেয়েরা বাংলা পড়তেই জানে না। তাঁর কথায়, ‘ওরা তো বাংলা বিষয়টা পড়ে না, বাংলাটা জানে না। ইন্টারন্যাশনাল গানগুলো তারা শুনছে, কোরিয়ান গান শুনছে। আমরা নিশ্চয়ই তাদের ট্রাক্ট করতে পারছি না।’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, বাংলা ভাষার আয়ু নিয়ে এক চরম আশঙ্কার কথা শুনিয়ে শিল্পী বলেন, ‘আমার খুব ধারণা আর কয়েক বছরের মধ্যে বাংলার আর কিছু থাকবে না, মানে বাংলা ভাষার।’
রিয়ালিটি শো থেকে উঠে আসা গায়কদের নিজস্বতা না থাকা এবং দ্রুত ভাইরাল হওয়ার প্রবণতাকে তিনি তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর ক্ষোভের সুরে উঠে আসে, ‘দ্রুত সাফল্য চাই, নয়তো যা খুশি তাই বানিয়ে হিট করব। এই যে জঘন্য একটা নরদমার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে আমাদের, এটা কি কোনদিন ভাবতে পেরেছিলাম?’ রিয়ালিটি শোর চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে তিনি সরাসরি বলেন, ‘যেকোন রিয়ালিটি শোতে সে ফার্স্ট-সেকেন্ড হয়ে যেখানেই হোক গাইতে শুরু করে দিচ্ছে। তার নিজস্ব কোন গান তৈরি হচ্ছে না। সিনেমার চান্স পাওয়া তো পরের কথা, শেখার জায়গাটার বড্ড অভাব।’
গানের মান ও শ্রোতাদের বদলে যাওয়া রুচি শিল্পীকে এতটাই ব্যথিত করেছে যে তিনি গান গাওয়ার ইচ্ছেও হারিয়ে ফেলছেন। শিল্পী অকপটে স্বীকার করেন, ‘আসলে আজকাল আর গান করতে ইচ্ছা করে না। গান করতে গেলে তখন মনে হয় যে কে শুনবে? কেউ নতুন গান শোনে না।’ তিনি মনে করেন, এখনকার ভাইরাল গানগুলোতে সুরের চেয়ে হুলিগানিজম বেশি থাকে, যা বাংলা গানের দীর্ঘ ইতিহাসকে অসম্মান করে।
আরও পড়ুনঃ ‘২০ পাতা পড়ার পর বলেছি স্ক্রিপ্ট ফেরত নিয়ে যান…ইন্ডাস্ট্রিতে বহুবার র্যাগিংয়ের শিকার আমি!’ বলিউড থেকে টলিউড, টিকে থাকার লড়াই নিয়ে অকপট শাশ্বত
সংগীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র বর্তমান ডিজিটালের সাক্ষাৎকারে অরিজিনাল মিউজিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, বর্তমানে অরিজিনাল মিউজিকের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তিনি বলেন, ‘সত্যিই খুব দুর্দিন। দুর্দিনের কারণটাও আমি বুঝতে পারি… আমাদের সময়টা ছিল অনেকগুলো কোম্পানি তারা একসাথে কাজ করতেন। আমাদের ভাবতে হতো না যে কী করব।’ তিনি মনে করেন, এখন গান কেবল কানের জন্য নয়, চোখের জন্য তৈরি হচ্ছে। ‘যেই মুহূর্তে ভিডিওর ব্যাপারটা এসে গেছে, এখন তো আর গান শোনার থেকে দেখাটাও একটা সঙ্গে ফ্যাক্টর এসে গেছে। তাই করে মনে হয় অরিজিনাল মিউজিক হারিয়ে যাচ্ছে।’

