৭০-এ থামলো কন্ঠ! সংগীত জগতকে শূন্য করে পৃথিবীকে চিরবিদায় জানালেন কালজয়ী সঙ্গীত জাদুকর!

মঙ্গলবার সকালে থমকে গেল বিনোদন জগতের একটা সুর। নিজের বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন এক কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা (Music Director)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। যাঁর হাতের ছোঁয়ায় সাধারণ দৃশ্য হয়ে উঠত অসাধারণ, যাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সিনেমার গল্পে প্রাণ এনে দিত, সেই নক্ষত্রপতনের খবরে এখন শোকস্তব্ধ অনুরাগী থেকে শুরু করে সহকর্মীরা।
একজন ঘনিষ্ঠ অনুরাগী বলছিলেন, “ওঁর তৈরি করা সুর শুধু কানে শোনা যেত না, তা সরাসরি হৃদয়ে অনুভব করা যেত।” সুরের এই জাদুকর শুধু গান বাঁধতেন না, তিনি তৈরি করতেন এক একটি দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি। গত চার দশক ধরে তাঁর প্রাণবন্ত সুর আর আবেগঘন গান মানুষকে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে এবং মুগ্ধ করেছে। সিনেমার পর্দায় যখন কোনো উত্তেজনা বা কান্নার দৃশ্য চলত, ওঁর আবহ সঙ্গীত সেই অনুভূতিকে দ্বিগুণ করে দিত।
সুরের সঙ্গে এই মানুষটির সখ্যতা ছিল জন্মসূত্রে। ১৯৭১ সালে গিটার বাদক হিসেবে নিজের কেরিয়ার শুরু করলেও ধীরে ধীরে তিনি একজন বহুমুখী সুরকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর হাত ধরে উঠে এসেছে একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট ছবির গান। তাঁর সুর দেওয়া সিনেমাগুলোর কথা ভাবলে আজও রোমাঞ্চ অনুভব করেন সিনেমাপ্রেমীরা।
১৯৮৫ সালে প্রথমবার প্রধান সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘ইন্দ্রজালাম’, ‘নাদোদি’, ‘কিলুক্কাম’, ‘মিন্নারাম’ বা ‘স্ফাদিকাম’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী ছবিতে তিনি যা কাজ করেছেন, তা যুগের পর যুগ মানুষের মনে গেঁথে থাকবে। কন্নড়, তেলুগু, তামিল ও মালয়ালম—এই চারটি ভাষায় সমানভাবে দাপিয়ে কাজ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার পুরুষ পছন্দ, অপরিণত ছেলে নয়!’ ছেলেটির পকেটে ছিল না টাকা, তাই ভালোবেসেও ধরেননি হাত? কি ছিল ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ? জানালেন মল্লিকা বন্দোপাধ্যায়!
যাঁর চলে যাওয়ায় আজ বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে, তিনি আর কেউ নন বিখ্যাত সুরকার এস পি ভেঙ্কটেশ। বিশেষ করে মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন তিনি। গত মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দক্ষিণ ভারতের এই প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীত ব্যক্তিত্বের বিদায়ে ভারতীয় সিনেমার একটি যুগের অবসান ঘটল।

