‘পরিবারের ৬৯ জন ছিল বিপক্ষে, শুধু মা পাশে ছিল বলেই আজ এখানে!’ অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মায়ের অনুপ্রেরণায় মেয়ে পর্দায়! কেমন ছিল ‘গৃহপ্রবেশ’-এর সাঁঝবাতির জীবনযুদ্ধের গল্পটা?

বাংলা টেলিভিশন (Bengali Television) জগতের এক উদীয়মান অভিনেত্রী হলেন লাবণী ঘোষ (Laboni Ghosh)। বর্তমানে স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গৃহপ্রবেশ’-এ সাঁঝবাতি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজরে এসেছেন। রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশন হাউসের এই ধারাবাহিকে তার সাবলীল অভিনয় তাকে অল্প দিনেই জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
লাবণী ঘোষের অভিনয় জীবনের শুরুটা খুব বেশিদিন আগের নয়, তবে অত্যন্ত অল্প সময়ে তিনি নিজের একটি জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। তার কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল সান বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কন্যাদান’। এই মেগা সিরিয়ালে তিনি পাঁচ বোনের অন্যতম এক বোন-এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ওই ধারাবাহিকের হাত ধরেই দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং এই ধারাবাহিকের মাধ্যমেই লাবণী মূলত ঘরে ঘরে পরিচিতি পান।
লাবণী ঘোষের আসল বাড়ি নদিয়া জেলার শান্তিপুরে। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে লাবণীর রক্তে ছোট থেকেই মিশে ছিল অভিনয়ের নেশা। কিন্তু তিনি জানতেন, রক্ষণশীল পরিবারে অভিনয়ের কথা বললে হয়তো শুরুতেই বাধা আসবে। তাই নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। লাবণী ছোট থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। আর এই মেধাকেই তিনি কলকাতায় আসার পাসপোর্ট হিসেবে ব্যবহার করেন।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাবণী অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ছোটবেলায় মন দিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন কেবল একটাই উদ্দেশ্যে যাতে ভালো রেজাল্ট করে উচ্চশিক্ষার বাহানায় শান্তিপুর ছেড়ে কলকাতায় আসতে পারেন। তিনি জানতেন, অভিনয়ের কথা বললে বাড়িতে আপত্তি থাকলেও, পড়াশোনার জন্য বাইরে যেতে চাইলে কেউ বাধা দেবে না।
পরিকল্পনা মাফিক লাবণী স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু শান্তিপুরে এই বিষয়টি নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল, তাই বাড়ির লোক সানন্দে তাকে কলকাতায় পড়তে পাঠাতে রাজি হয়ে যান। বাড়িতে সবাই জানতেন লাবণী কেবল পড়াশোনা করতেই কলকাতা যাচ্ছেন, কিন্তু লাবণীর মনের কোণে তখন বাসা বেঁধেছিল টলিউডের রূপোলি পর্দার স্বপ্ন।
আরও পড়ুনঃ ‘নিজেকে ঘেন্না করতাম…অস্ত্রোপচারের পর শরীরের উপর ভীষণ রকম অ’ত্যাচার করেছি!’ শৈশবেই মা-বাবার সংসার ভাঙনের সাক্ষী! অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে ভয়ংকর অসুখ! কি হয়েছিল ঋতাভরী চক্রবর্তীর? কেমন আছেন অভিনেত্রী?
লাবণী একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, তার পরিবারটি ছিল বিশাল বড়। সেই যৌথ পরিবারের অন্তত ৬৯ জন সদস্য তার কলকাতায় আসার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছিলেন। পরিবারের সেটা নিরাপদ ছিল না, আর পড়াশোনার জন্য কলকাতার মতো শহরে একা থাকতে যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল প্রবল আপত্তি। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মাঝেই লাবণী খুঁজে পেয়েছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় অবলম্বন— তার মা। যেখানে পরিবারের বাকি ৬৯ জন সদস্য একদিকে ছিলেন, সেখানে লাবণীর মা একা অন্য পাশে দাঁড়িয়ে নিজের মেয়ের স্বপ্নের জন্য লড়াই শুরু করেন। মা জানতেন লাবণী পড়াশোনায় মেধাবী এবং তার জেদ কতটা প্রবল। তাই বাড়ির বাকিদের বিরুদ্ধে গিয়ে, অনেক কটু কথা সহ্য করেও লাবণীর মা তাকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। সে কথা বলতে গিয়েই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজের মাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

