‘নিজেকে ঘেন্না করতাম…অস্ত্রোপচারের পর শরীরের উপর ভীষণ রকম অ’ত্যাচার করেছি!’ শৈশবেই মা-বাবার সংসার ভাঙনের সাক্ষী! অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধে ভয়ংকর অসুখ! কি হয়েছিল ঋতাভরী চক্রবর্তীর? কেমন আছেন অভিনেত্রী?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম উজ্জ্বল এবং সাহসী অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। তার জীবন একাধারে সাফল্য, লড়াই এবং হার না মানা মানসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কেবল অভিনয়ের দক্ষতায় নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সংগ্রাম এবং শারীরিক প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি আজ অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। ঋতাভরীর জীবনের শুরুটা খুব একটা সহজ ছিল না। খুব ছোটবেলাতেই তিনি পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হন। তার মা শতরূপা সান্যাল এবং বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায় যখন ঋতাভরী অত্যন্ত ছোট। তার মা একার হাতে ঋতাভরী এবং তার দিদি চিত্রাঙ্গদাকে বড় করে তোলেন।
বাবার অনুপস্থিতি তাদের জীবনে এক বড় শূন্যতা তৈরি করলেও, মায়ের অদম্য জেদ এবং শিক্ষায় তারা দুজনেই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। ঋতাভরী প্রায়শই তার সাক্ষাৎকারে বলেন যে, তার মা-ই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং মেরুদণ্ড। প্রতিকূলতাকে জয় করার সাহস তিনি তার মায়ের থেকেই পেয়েছেন। সম্প্রতি এক পড কাস্ট শোতে এসে অভিনেত্রী নিজের জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা ভাগ করে নিয়েছেন।
ঋতাভরীর অভিনয় জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল টেলিভিশনের হাত ধরে। স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ওগো বধূ সুন্দরী’-তে ললিতার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিতি পান। তার সতেজ অভিনয় এবং মিষ্টি হাসি দর্শকদের মন জয় করে নেয়। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় তার উত্তরণ ঘটে সাবলীলভাবে। চতুষ্কোণ, মাছ মিষ্টি অ্যান্ড মোর, ব্রহ্মা জানে গোপন কম্মটি থেকে শুরু করে হিন্দি ছবি সবক্ষেত্রেই তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
ঋতাভরীর জীবনের এক কালো অধ্যায় শুরু হয় কয়েক বছর আগে, যখন তিনি গুরুতর শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন। পরপর দুটি বড় অস্ত্রোপচারের কারণে তাকে দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটাতে হয়। এই সময়টা ছিল তার জন্য শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। অস্ত্রোপচারের ধকল এবং দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তার শরীরের স্বাভাবিক গঠন বদলে যেতে থাকে। অভিনেত্রী হঠাৎ করেই অনেকটা ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। গ্ল্যামার জগতের বাসিন্দা হওয়ায় এই পরিবর্তন তার পেশার ক্ষেত্রে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে নায়িকাদের শরীরী সৌন্দর্যকে তুড়ি মেপে বিচার করা হয়, সেখানে শরীরের এই পরিবর্তন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তবে ঋতাভরী দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না।
আরও পড়ুনঃ ‘ও যদি কোনদিনও অন্য কারোর সাথে সম্পর্কেও যায় আমার আপত্তি নেই!’ সুদীপ্তাকে নিয়ে স্বর্ণ শেখরের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!
অস্ত্রোপচারের পরবর্তী রিকভারি পিরিয়ডে ঋতাভরীর হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে তার ওজন দ্রুত বাড়তে শুরু করে। অভিনেত্রী জানান, ‘অস্ত্রোপচারের পর আমি আমার শরীরকে ভীষণ রকম অত্যাচার করেছি।’ একজন অভিনেত্রী হিসেবে যার জীবন ক্যামেরার সামনে এবং যার কাছে শারীরিক সৌন্দর্য পেশার একটি বড় অংশ, তার কাছে এই পরিবর্তন মেনে নেওয়া ছিল ভীষণ কঠিন। তিনি পডকাস্টে বলেন যে, আয়নায় নিজের বদলে যাওয়া চেহারা দেখে তিনি নিজেই নিজেকে চিনতে পারতেন না। তবে তিনি বুঝতে পারেন যে, সুস্থ হওয়াই আসল সাফল্য। তিনি নিজের শরীরকে যেমন আছে তেমনভাবেই ভালোবাসতে শুরু করেন। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি ‘ফাটাফাটি’ সিনেমায় অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তার বাস্তবের এই ‘প্লাস সাইজ’ লুকটিই ছিল গল্পের মূল শক্তি। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, একটা অপারেশন বা শরীরের বাড়তি মেদ একজন মানুষের পরিচয় বা তার প্রতিভা কেড়ে নিতে পারে না।

