পুঁথি উদ্ধারের আগেই কি শেষ হয়ে যাবে দিতি? কুন্তলার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার শিকার দিতি!

তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সেঁজুতির চিৎকার ও কান্নায় গোস্বামী বাড়িতে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাড়ির সবার ঘুম ভেঙে গেলে দিতি দ্রুত নিজেকে স্বাভাবিক করে নেয় এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে সবাইকে জানায় যে নিচে চোর ধরা পড়েছে। দিতির কথা শুনে পরিবারের সবাই যখন মন্দিরের সামনে জড়ো হয়, তখন গোরার দাদা তার স্ত্রীকে থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন যে সেঁজুতি ঘুমের ঘোরে বাজে স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু অনুতপ্ত সেঁজুতি কারো বাধা না মেনে সবার সামনে তার স্বামীর সব কুকীর্তি ফাঁস করে দেয়।
সেঁজুতি স্পষ্টভাবে জানায় যে দিতি যে মূল্যবান পুঁথিটি খুঁজছিল, সেটি আসলে তার স্বামীই চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এর আগেও তিনি লাইব্রেরি থেকে অনেক দুষ্প্রাপ্য বই চুরি করে বাইরে বিক্রি করেছেন। এই সত্য প্রকাশ পাওয়ার পর বাড়ির সবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। কারণ, সেই পুঁথি ও বইগুলো ছিল গোস্বামী বাড়ির বংশপরম্পরার ঐতিহ্য এবং পরিবারের সম্মানের প্রতীক। এই চুরির ঘটনা সবার কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে ধরা দেয়।

প্রথমে চুরির কথা অস্বীকার করলেও, পরিবারের চাপ এবং মহাপ্রভুর বিগ্রহের সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ের চোটে গোরার দাদা নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে সবার কাছে ক্ষমা চান, কিন্তু তার মা ও দাদু এই জঘন্য অপরাধ মেনে নিতে পারেন না। বংশের মর্যাদা নষ্ট করার শাস্তি হিসেবে দাদু তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। এর আগে গোরার মা শ্বশুরমশাইয়ের কাছে অনুনয়-বিনয় করলেও দাদু নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
বাড়ির এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে গোরার দাদা ও বৌদির কান্না দেখে দিতির মন গলে যায়। সে নিজে এগিয়ে এসে দাদুকে অনুরোধ করে যাতে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া না হয়। দিতির অনুরোধে শেষ পর্যন্ত দাদু নরম হন, তবে তিনি একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দেন আগামীকালের মধ্যে সেই চুরি যাওয়া পুঁথি বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে হবে। গোরা তৎক্ষণাৎ তার দাদাকে দিয়ে সেই দালালকে ফোন করায়, কিন্তু ততক্ষণে পুঁথিটি দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুলস্ত্যর হাতে চলে গেছে, যা বাড়ির কেউ তখনো জানত না।
আরও পড়ুনঃ মেহেন্দির রঙে অতীতের ছায়া! পিসিমণির অনুষ্ঠানে হাজির পুরনো প্রেমিক সমীরণ!
পুঁথি উদ্ধারের দায়িত্ব দিতি নিজের কাঁধে তুলে নেয় এবং সবাইকে কথা দেয় যে সে সেটি ফিরিয়ে আনবে। তবে একদিকে যখন দিতি পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে কুন্তলা এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। সে দিতিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি বিষধর গোখরো সাপ নিয়ে আসে। এখন দেখার বিষয়, দিতি কি পারবে কুন্তলার এই প্রাণঘাতী আক্রমণ এড়িয়ে সেই ঐতিহ্যবাহী পুঁথি উদ্ধার করে গোস্বামী বাড়ির সম্মান রক্ষা করতে।

