হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মিঠি! সকলের আড়ালে গোপন রিপোর্টের সন্ধানে ভয়ঙ্কর চক্রান্ত বর্ষার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

চিরসখা (Chirosokha) ধারাবাহিকে জমজমাট পর্ব। ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দেখানো হবে, ঘুরতে যাওয়ার আলোচনার মাঝেই কৃশানুর মুখ থেকে অসাবধানবশত বেরিয়ে আসে মিঠির জীবনের সেই পুরনো দুর্ঘটনার কথা। মুহূর্তের জন্য সময় যেন থমকে যায়। সেই তিক্ত স্মৃতি মিঠির মনের ক্ষতকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। কিন্তু কৃশানু দমে যাওয়ার পাত্র নয়, সে অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসের সাথে মিঠিকে আগলে নেয়। সে মিঠিকে বোঝায় যে, পেছনের অন্ধকারকে আঁকড়ে ধরে থাকলে সামনে এগিয়ে চলা সম্ভব নয়। অতীত কেবল অভিজ্ঞতার জন্য, যন্ত্রণার জন্য নয়।
কৃশানুর এই বলিষ্ঠ মানসিকতা দেখে মিঠি মনে মনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে বুঝতে পারে যে এমন একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কৃশানু তাকে অভয় দেয়, অতীতে তাকে নিয়ে কে কী কুৎসা রত করেছে তাতে তার কিছু যায় আসে না। যদি কেউ মিঠিকে অপমান করার চেষ্টা করে, তবে কৃশানু তার যোগ্য জবাব দেবে। এই নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের আশ্বাস পেয়ে মিঠি চোখের জল মুছে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।
অন্যদিকে, কমলিনী ও স্বতন্ত্রের দাম্পত্য জীবনে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। মিঠির সুস্থ হয়ে ওঠা এবং জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসা দেখে তাঁরা দুজনেই বড় এক মানসিক ভারমুক্ত হয়েছেন। তবে তাঁদের নিজেদের সম্পর্কের সমীকরণটি সহজ হচ্ছে না। স্বতন্ত্র আপ্রাণ চেষ্টা করছেন কমলিনীর সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনতে, তাঁর আরও কাছে আসতে। অথচ কমলিনী যেন এক অদৃশ্য গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রেখেছেন। অদ্ভুত এক অস্বস্তি তাঁকে তাড়া করে ফিরছে।
অথচ এই কমলিনীই আবার স্বতন্ত্রকে পৃথিবীর সবথেকে বেশি বিশ্বাস করে তাকে ছাড়া তাঁর এক মুহূর্ত চলে না। কিন্তু ব্যক্তিগত নৈকট্যের প্রশ্নেই তিনি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছেন। কমলিনীর এই দূরত্ব বজায় রাখা দেখে স্বতন্ত্র এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কমলিনী যতদিন না নিজে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে তাঁর কাছে ধরা দেবেন, ততদিন তিনি আর কমলিনীর সামনে আসবেন না। এই নীরব অভিমান বাড়ির পরিবেশে এক গুমোট ভাব তৈরি করে।
পরের দিন সকালে এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে পরিবারের সবাই মিঠির অপারেশনের জন্য হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেন। স্বতন্ত্র, কমলিনী, মিঠির বড় দাদা, পিসিমণি এবং ছোট বৌদি সবাই তৈরি। বর্ষা প্রথমে লোকদেখানো উৎসাহ নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, মনে মনে সে বাড়িতে থেকে যাওয়ার ফন্দি আঁটে। তার মনের ভেতরে এক কুৎসিত ধারণা বাসা বেঁধেছে। সে ভাবছে মিঠি অন্তঃসত্ত্বা এবং বাড়ির সবাই যোগসাজশ করে সেই সন্তানকে নষ্ট করার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছে। এই সুযোগে সে বাড়ির আলমারি খুলে আসল রিপোর্টটি দেখে নিতে চায়।
আরও পড়ুনঃ দিতির চালে বাজিমাত! ধর্মভীরু সেঁজুতির স্বীকারোক্তি! পুঁথি চুরির টাকায় কেনা দুলই ধরিয়ে দিল অপরাধীকে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
কৃশানু পেশাগত চাপের কারণে এই যাত্রায় সঙ্গ দিতে না পারলেও, তার মন পড়ে থাকে মিঠির কাছে। সব মিলিয়ে, একদিকে যখন একটি নতুন ভোরের অপেক্ষায় গোটা পরিবার হাসপাতালের পথে পা বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই বাড়ির ভেতরে বর্ষার ষড়যন্ত্র শুরু। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয় আগামী পর্বে।

