‘সন্তু মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে বলে গালা’গাল করত!’ বাবার নাম জানতে পারলেই কেন কটু কথা শুনতে হতো অভিনেত্রীকে? ‘মেয়ের সঙ্গে বেশি কথা বলা যায় না, ও বড্ড বেশি আমার…’ পরিবার থেকে প্রেম, অকপটে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সাহসী, স্পষ্টবক্তা এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেত্রী হলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (Swastika Mukherjee)। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে আজ পর্যন্ত তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা এবং অনবদ্য ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে দর্শকদের মনে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা সন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্যা। তবে বাবার পরিচয়কে মূলধন করে নয়, বরং নিজের মেধার জোরেই তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে স্বস্তিকা সবসময়ই আড়ালহীন এবং স্পষ্টবাদী। খুব অল্প বয়সে প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাগর সেনের ছেলে প্রমিত সেনের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি একজন সিঙ্গল মাদার হিসেবে মেয়ে অন্বেষাকে বড় করে তুলেছেন। তার জীবন নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক দানা বাঁধলেও, তিনি সবসময়ই নিজের শর্তে বাঁচতে পছন্দ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বডি শেমিং থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির নানা অন্ধকার দিক নিয়ে তিনি নির্ভয়ে কথা বলেন।
কোলের শিশু অন্বেষাকে নিয়ে যখন তিনি নতুন জীবন শুরু করেন, তখন তার হাতে না ছিল কাজ, না ছিল ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। তার কথায়, “অন্বেষাই আমার জীবনযুদ্ধের প্রধান চালিকাশক্তি ওর হাসিমুখের জন্যই আমি সব লড়াই লড়তে পেরেছি।” স্বস্তিকা বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়ের গ্র্যাজুয়েশন বা সাফল্যের ছবি শেয়ার করে তার গর্ব প্রকাশ করেন। স্বস্তিকা সবসময়ই চেয়েছেন অন্বেষা যেন নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং একজন স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে বড় হয়, ঠিক যেমনটা তিনি নিজে।
বাবা সন্তু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্বস্তিকার সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। স্বস্তিকার প্রথম দিকের অভিনয় সমালোচকদের একদমই পছন্দ হয়নি। সেই সময়কার সংবাদমাধ্যম এবং খবরের কাগজে তার অভিনয়কে নিয়ে সমালোচনা করা হতো। সমালোচকরা শুধু তার অভিনয় নিয়ে সমালোচনা করেই ক্ষান্ত হতেন না, তারা টেনে আনতেন তার বাবা, কিংবদন্তি অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়ের নাম। কিন্তু সেই সময় হাল ছাড়েননি তিনি। বাবাকে পাশে পেয়েছিলেন। এমনকি অভিনেত্রীর সিঙ্গল মাদার হওয়ার কঠিন দিনগুলোতে সন্তু বাবু ছিলেন তার সবচেয়ে বড় মানসিক শক্তি। স্বস্তিকা প্রায়ই স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, তার বাবা কখনোই তাকে তার অতীত ভুলের জন্য দোষারোপ করেননি, বরং সবসময় তার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ২০২০ সালে বাবার মৃত্যুর পর স্বস্তিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও অন্বেষার সাহচর্য তাকে শক্তি জুগিয়েছে। অন্বেষা এখন বিদেশে উচ্চশিক্ষারত, কিন্তু মা-মেয়ের বন্ধুত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ মেকআপ থেকে মারাত্মক বিপদ! চোখের সংক্রমণে কাবু জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য! হতে পারে অস্ত্রো’পচার! এই মুহূর্তে কি অবস্থায় আছেন অভিনেত্রী?
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জি ফাইভে মুক্তি পেয়েছে স্বস্তিকার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কালীপটকা’। এই সিরিজে তার শক্তিশালী অভিনয় দর্শকদের দারুণ পছন্দ হয়েছে। বর্তমানে তিনি এই সিরিজের প্রচার এবং সাফল্যের জোয়ারে ভাসছেন। অভিনয়ের বাইরে স্বস্তিকা এখন অনেকটা সময় নিজের মতো করে কাটাচ্ছেন।

