জন্ম জন্মান্তরের বন্ধনে আবদ্ধ দিতি-গোরা! অসমাপ্ত প্রেম কি পূর্ণতা পাবে এই জন্মে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পুলস্ত্য যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন চিতা জ্বলে গিয়েছে। রূপের নিথর দেহ ততক্ষণে আগুনের শিখায় বিলীন হতে শুরু করেছে। নিজের পরাজয় আর প্রতিহিংসার আগুনের কাছে হেরে গিয়ে রাগে ফেটে পড়ে পুলস্ত্য। তার সাথে যারা ছিল তারা উন্মত্ত হয়ে গোরার গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইলেও সক্ষম হয় না। ভাগ্যের জোরে গোরা ও দিতি সেইখান থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
গাড়ির নিস্তব্ধতায় গোরার পাশে বসে দিতি অনুভব করে এক অদ্ভুত অনুভূতি। মৃত্যু আর ধ্বংসের মাঝখান থেকে তাকে যেভাবে গোরা ছিনিয়ে এনেছে, তাতে গোরার প্রতি দিতির মনে এক গভীর ভালোবাসার জন্ম হয়। দিতি তার চোখের দৃষ্টি দিয়ে সেই প্রেম নিবেদন করলেও গোরা নিজেকে গুটিয়ে রাখে। এক অদৃশ্য দেওয়াল তুলে সে সচেতনভাবে দিতিকে এড়িয়ে চলতে থাকে, যেন কোনো এক অজানা আশঙ্কায় সে ভীত।
বাড়ি ফিরে গোরার মন শান্ত ছিল না। রহস্যের জট ছাড়াতে সে সোজাসুজি তার দাদুর মুখোমুখি হয়। গোরা জানতে চায়, কেন সে বারবার সেই রহস্যময় তিন সাধুকে দেখতে পায়? কেন তারা তার ছায়ার মতো পিছু ছাড়ছে না? প্রথমে দাদু বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলেও গোরার অনড় জেদের কাছে তাকে হার মানতে হয়। দাদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করেন গোরার শৈশবের এক অদ্ভুত অধ্যায়। খুব ছোটবেলায় একবার গোরার প্রচণ্ড জ্বর হয়েছিল, যা কোনো ওষুধে সারছিল না। তখনই সেই তিন সাধুর আবির্ভাব ঘটে। তারা জানিয়েছিলেন, গোরা কোনো সাধারণ মানুষ নয়। ওই তিন সাধু মূলত অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখতে পায়।
তারা অনেক আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে রূপের এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়া এবং আবার ফিরে আসা, এসবই এক বৃহত্তর নিয়তির অংশ। দাদু গোরার চোখে চোখ রেখে বলেন, যতদিন না তারা তাদের পুনর্জন্মের প্রকৃত রহস্য জানতে পারবে, ততদিন এই অশান্তি থামবে না। অন্যদিকে, গোরার বোনকে নিয়ে খেলতে খেলতে দিতি গোরাদের বাড়ির এক পরিত্যক্ত প্রান্তে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে সারিবদ্ধভাবে বন্ধ পড়ে থাকা ঘরগুলো যেন কোনো এক ইতিহাসের সাক্ষী। হঠাৎ একটি জীর্ণ দরজা আপনাআপনিই খুলে যায়। কৌতূহলী দিতি নিজেকে সামলাতে না পেরে সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে প্রবেশ করে। ধুলোবালির স্তূপ আর পুরনো আসবাবের মাঝে খুঁজতে খুঁজতে সে খুঁজে পায় একটি প্রাচীন পুঁথি।
আরও পড়ুনঃ ঋতাভরীর জীবনে নতুন সদস্য! নতুন ডাক! নতুন অতিথির অপেক্ষায় অভিনেত্রীর পরিবার! কোন সম্পর্কে নিজেকে বাঁধতে চলেছেন অভিনেত্রী?
সেই পুঁথির পাতায় দিতি আবিষ্কার করে এক অবিশ্বাস্য আখ্যান ফুল ও মুরারির কাহিনী। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, শতবর্ষ আগের সেই অতৃপ্ত প্রেমই আজ আবার ফিরে এসেছে। আসলে ফুলের পুনর্জন্ম হয়েছে দিতি রূপে, আর মুরারি জন্ম নিয়েছে গোরা হয়ে। পুঁথির প্রতিটি অক্ষরে দিতি নিজের বর্তমান জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। এরপর দিতি সেই পুঁথি দেখাতে ছুটে যায় গোরার কাছে। তাকে শোনায় ফুল মুরারির পূর্বজন্মের সেই চিরন্তন প্রেমের গল্প। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয় আগামী পর্বে।

