খুশির দিনেও এক অপূরণীয় শূন্যতা! বছর খানিক আগেই হারিয়ে গিয়েছে বোন ঐন্দ্রিলা! দিদি ঐশ্বর্যর বিয়েতে আবেগের ছায়া আর সব্যসাচীর নীরব উপস্থিতি!

২০২২ সালের নভেম্বর মাসে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে থেমে গিয়েছিল টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ ঐন্দ্রিলা শর্মার জীবন। সেই ক্ষত এখনও দগদগে। মঙ্গলবার আইনি বিয়ে সারলেন ঐন্দ্রিলার দিদি ঐশ্বর্য শর্মা। বহুদিন পরে শর্মা পরিবারে ফিরল একটু হাসি, একটু আলো। তবু আনন্দের মাঝেও কোথাও যেন একরাশ শূন্যতা। এই বিশেষ দিনে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেন ঐন্দ্রিলার দীর্ঘদিনের প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরী। তাঁকে দেখেই যেন চিনে ফেলল ঐন্দ্রিলার আদরের পোষ্য বোজো আর তোজো, ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল তাঁকে। মুহূর্তটা আবেগে ভরিয়ে দিয়েছিল গোটা অনুষ্ঠানস্থল।
বোনকে হারানোর পর নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন ঐশ্বর্য। তাই এই অনুষ্ঠান তাঁর কাছে ছিল একদিকে খুশির, অন্যদিকে কষ্টেরও। বিয়ের আসরে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল ঐন্দ্রিলার ছবি। ঐশ্বর্য নিজেই বললেন, জীবনের বিশেষ দিনে বোনকে আরও বেশি করে মনে পড়ছে। তাঁর কথায়, এই অনুষ্ঠানটাই তাঁদের বাড়ির প্রথম আনন্দের আয়োজন ঐন্দ্রিলার চলে যাওয়ার পর। ঐন্দ্রিলা থাকলে সাজসজ্জা থেকে শুরু করে দিদির তৈরি হওয়া পর্যন্ত সবকিছুর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতেন। সেই অভাবটাই বারবার চোখে পড়ছিল ঐশ্বর্যের।
মায়ের মনেও সেই একই অনুভূতি। ঐন্দ্রিলা বেঁচে থাকলে তিন বছর হয়ে যেত তাঁর বিয়ের। বড় মেয়ে মিতুলের এনগেজমেন্টের দিন থেকেই সেই কথাই ঘুরছিল তাঁর মনে। শরীর খারাপ থাকা সত্ত্বেও সব সামলে নিয়েছেন তিনি। বললেন, মেয়ের মুখের দিকে তাকালেই ভেসে উঠছে মিষ্টির হাসি। জামাই দিব্যর দিকে তাকালেই মনে হচ্ছে সামনে দাঁড়িয়ে আছে সব্যসাচী। মনে হচ্ছিল, ঐন্দ্রিলা থাকলে এই সময়েই তাঁর বিয়ের তিন বছর পূর্ণ হতো। কষ্ট সামলে নিজেকে শক্ত রাখার লড়াই ছিল প্রতিটা মুহূর্তে।
এই দিনে সন্ধে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঐশ্বর্যের পাশে ছিলেন সব্যসাচী চৌধুরী। ঐন্দ্রিলার পোষ্যরাও যেন তাঁকে নিজেদের মানুষ হিসেবেই চিনে নিয়েছিল। ঐশ্বর্য জানালেন, এখনও তাঁর জীবনের প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সব্যসাচীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অডিশন হোক বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সব ক্ষেত্রেই তাঁর মতামত গুরুত্বপূর্ণ। ঐন্দ্রিলা আর সব্যসাচী দুজনেই যেন একসময় ঐশ্বর্যের জীবনটাকে আগলে রেখেছিলেন। তাই সব্যসাচী ছাড়া এই অধ্যায় কল্পনাই করা যায় না তাঁর পক্ষে।
আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী নয় মিঠি! তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মা’রণ রোগ! রিপোর্ট দেখতেই চমকে গেল গোটা পরিবার! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
আনন্দ আর বেদনার এই মিশ্র দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠল একটি কথাই। ঐন্দ্রিলা শর্মা নেই, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি ছড়িয়ে রয়েছে পরিবারের প্রতিটা কোণে, প্রতিটা মুহূর্তে। দিদির বিয়ের আসরেও যেন তিনি ছিলেন অনুভবে, স্মৃতিতে আর ভালোবাসায়। সব্যসাচীর নীরব উপস্থিতি আর পোষ্যদের উচ্ছ্বাস সেই কথাই মনে করিয়ে দিল। শর্মা পরিবারের এই নতুন শুরুতে তাই খুশির সঙ্গে জুড়ে রইল স্মৃতির নরম বিষাদ।

