‘দাদা দিদিদের খুশি না করলে কাজ নেই’, ‘আমার অভিনেতা বন্ধুরা পেটের দায়ে সায়কের বিরুদ্ধে কথা বলছে…’ পার্কস্ট্রীট কাণ্ড নিয়ে অকপটে রুদ্রনীল ঘোষ!

কিছুদিন আগেই শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টে অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর (Sayak Chakraborty) সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে কেবল একটি ভুল অর্ডারের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক বিতর্কের আকার ধারণ করেছে। সায়ক চক্রবর্তী বন্ধুদের সঙ্গে পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন একটি নামী রেস্টুরেন্টে খেতে যান। সেখানে তাঁরা স্পষ্টভাবেই ‘মটন স্টেক’ অর্ডার করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের পর সাধারণভাবেই সবাই তা খেতে শুরু করেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন রেস্টুরেন্ট কর্মীদের কথোপকথন থেকে জানা যায় যে, তাঁদের ভুলে মটনের বদলে ‘বিফ’ বা গোমাংস পরিবেশন করা হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই সায়ক এবং তাঁর বন্ধুরা স্তম্ভিত হয়ে যান।
কিন্তু একজন হিন্দু হিসেবে ধর্মীয় সংস্কার এবং ব্যক্তিগত ভাবাবেগে আঘাত লাগায় সায়ক বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন, যা মুহূর্তেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এই বিতর্কে ঘি ঢেলেছে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য। তিনি অত্যন্ত সোজাসুজি এবং কঠোর ভাষায় সায়কের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁঠার মাংসের বদলে গরুর মাংস খাওয়ানো হলো হিন্দুকে, আর রেস্টুরেন্ট কেবল দুঃখ প্রকাশ করলো। কিন্তু যদি এর ঠিক উল্টোটা ঘটত অর্থাৎ কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে ভুল করে শুকরের মাংস খাওয়ানো হতো—তাহলে কি কেবল ‘সরি’ বললে পরিস্থিতি শান্ত হতো? পার্ক স্ট্রিটের মতো এলাকায় কি সেই রেস্টুরেন্ট অক্ষত থাকত?’
টলিউডের অন্দরেও এই নিয়ে চোরাগোপ্তা সমালোচনা চলছে। অনেক তারকা সায়ককে কটাক্ষ করে বলছেন যে, স্বাদ না বুঝে খাবার খেয়ে এখন ধর্মীয় দোহাই দেওয়া অর্থহীন। একদিকে যেমন সায়কের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, অন্যদিকে রুদ্রনীল ঘোষের মন্তব্য এই বিতর্ককে সরাসরি ‘শাসক দল বনাম বিরোধী পক্ষ’-এর লড়াইয়ে রূপান্তর করেছে। রুদ্রনীল অত্যন্ত সাহসের সাথে দাবি করেছেন যে, যারা সায়কের বিপক্ষে কথা বলছেন বা ঘটনাটিকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন, তারা আসলে “পেটের দায়ে” কথা বলছেন।
তাঁর মতে, এই সেলিব্রিটিরা শাসক দল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বা সরাসরি পক্ষ নিচ্ছেন। বর্তমানে টলিউডের বেশিরভাগ টেকনিশিয়ান ইউনিয়ন থেকে শুরু করে প্রোডাকশন হাউসের নিয়ন্ত্রণ শাসক দলের হাতে। ফলে অভিনেতারা নিজেদের ক্যারিয়ার বাঁচাতে এবং নিয়মিত কাজ পেতে রাজনৈতিক মতাদর্শকে বিসর্জন দিয়ে আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুনঃ বন্ধুর কাছে হাত পেতেছেন দুমুঠো খাবারের জন্য! ‘দোকানে খাবার নিয়ে টাকা না দিয়ে পালিয়ে এসেছি…’ কেমন ছিল ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ ধারাবাহিকের রাজদীপ গোস্বামীর জীবন যুদ্ধ?
রুদ্রনীল সরাসরি কটাক্ষ করে বলেছেন যে, যারা সায়কের ধর্মীয় ভাবাবেগকে উপহাস করছেন, তারা আসলে শাসক দলের সেইসব অনুগামী যারা ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। একজন অভিনেতার ক্যারিয়ার নির্ভর করে বড় প্রোডাকশন হাউস এবং চ্যানেলের মর্জির ওপর। যদি কোনো শিল্পী শাসক দলের বিরাগভাজন হন, তবে তাঁর কাছে মেগা সিরিয়াল বা সিনেমার অফার আসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ইন্ডাস্ট্রির এক বিশাল অংশের সমস্যা। যারা মেরুদণ্ড সোজা রেখে কথা বলতে চান, তাঁদের ভাতে মারার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রতিভাবান শিল্পী কেবল রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে হারিয়ে যাচ্ছেন।

