‘আমার বাবা তো ছে’লেধরা, যেখান থেকে পারতেন ছেলে তুলে…’ ক্যামেরার সামনেই বাবাকে নিয়ে বি’স্ফোরক সোহিনী সেনগুপ্ত! কেন এমন বললেন অভিনেত্রী?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম শক্তিশালী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেত্রী হলেন সোহিনী সেনগুপ্ত (Sohini Sengupta)। তিনি মূলত থিয়েটার এবং চলচ্চিত্র উভয় মাধ্যমেই সমানভাবে জনপ্রিয়। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এবং স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের কন্যা হিসেবে অভিনয় তাঁর রক্তে মিশে আছে। পারিবারিক ঐতিহ্য মেনেই তিনি নিজেকে একজন প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সোহিনী তাঁর অভিনয় জীবনের হাতেখড়ি দিয়েছিলেন থিয়েটারের মঞ্চে।

অপর্ণা সেন পরিচালিত ‘পারমিতার একদিন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয়। এই সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন। সোহিনী সেনগুপ্ত তাঁর স্বতন্ত্র বাচনভঙ্গি এবং সাবলীল অভিনয়ের জন্য পরিচিত। গ্ল্যামারের চেয়ে চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তুলতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি অনেক তরুণ অভিনয়শিল্পীর মেন্টর এবং শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত এবং অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিকের প্রেম ও দাম্পত্য টলিউড এবং থিয়েটার জগতের অন্যতম আলোচিত বিষয়। তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা যেমন প্রশংসিত, তেমনই অসম বয়সের কারণে তাঁদের নিয়ে নানা সমালোচনাও হয়েছে। সোহিনী সপ্তর্ষির চেয়ে প্রায় ১৪ বছরের বড়। এই বিশাল বয়সের পার্থক্যের কারণে নেটিজেনদের অনেকেই তাঁদের সম্পর্ককে বাঁকা চোখে দেখেন।

সোহিনী ও সপ্তর্ষি দুজনেই এই সমালোচনাকে খুব পরিপক্কভাবে সামলেছেন। সোহিনীর মতে, তিনি সপ্তর্ষির জ্ঞানের গভীরতা এবং ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, সপ্তর্ষি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে পর্দার বাইরে তাঁদের রসায়ন অত্যন্ত মজবুত। একটি সাক্ষাৎকারে সপ্তর্ষি মজা করে বলেছিলেন যে, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি পর্দায় সোহিনীর ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করতেও রাজি আছেন, কারণ বাস্তব আর পর্দার সম্পর্ক আলাদা।

আরও পড়ুনঃ ‘তোমার মতো পরিচালক অনেক আসবে যাবে!’ ভরা মজলিসে রাজ চক্রবর্তীকে অপমান, প্রতিবাদ না করে স্বামীর বিরুদ্ধে শুভশ্রী?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজের বাবাকেই ছেলেধরা বলে দাবি করেছেন। কিন্তু হঠাৎ কেন বাবা সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী? কি কারণে এমন কথা বললেন তিনি? আসলে রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বিশ্বাস করতেন যে থিয়েটার কেবল পেশাদার অভিনেতাদের জন্য নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের এখানে অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। তিনি রাস্তাঘাট বা সাধারণ জায়গা থেকেও প্রতিভাবান বা অনন্য বৈশিষ্ট্যের মানুষকে খুঁজে আনতেন এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মঞ্চে তুলে দিতেন। সোহিনী বড় হয়েছেন এই পরিবেশ দেখে, যেখানে থিয়েটার মানে কেবল স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করা নয়, বরং মানুষ চেনা এবং মানুষকে ভালোবাসা।

Back to top button