সারেঙ্গির সুরে জীবন গড়েছেন গায়িকা! কার প্রেমে আজীবন অবিবাহিতই থেকে গেলেন হৈমন্তী শুক্লা?

এক গাল চওড়া হাসি, কপালে বড় টিপ আর অদম্য এক ব্যক্তিত্ব। বাংলা সংগীত জগতের বটগাছ বললে যাঁর নামটা স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসে, তিনি হৈমন্তী শুক্লা। ১৯৭২ সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে আজও সেই পথচলা থামেনি। এখনও মঞ্চে উঠে গান গাইছেন তিনি, এখনও সারেঙ্গির সুরে বুঁদ করে রাখছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। শিল্পী হিসেবে যেমন তিনি অনন্য, মানুষ হিসেবেও তেমনই আপন, শিষ্যদের কাছে একেবারে মায়ের মতো।

তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই কৌতূহলের বিষয়। এত জনপ্রিয়তা, এত ভালবাসা, তবু কেন কখনও সংসার পাতলেন না তিনি? কেন আজীবন অবিবাহিতই থেকে গেলেন? এক রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চে এই প্রশ্ন উঠতেই অকপট জবাব দিয়েছিলেন হৈমন্তী। কোনও দ্বিধা না রেখে বলেছিলেন, গান ছাড়া তাঁর আর কিছুই ভাল লাগে না। গানের সঙ্গেই তাঁর গভীর প্রেম, সেই প্রেমই তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। সংসারী হওয়ার ইচ্ছে তাঁর কোনও দিনই হয়নি, সে কথা স্পষ্ট ভাবেই জানিয়ে দেন তিনি।

বর বা সন্তান না থাকার আফসোস কি কখনও মনে জেগেছে? এই প্রশ্নেও তাঁর উত্তর ছিল একেবারে সোজাসাপ্টা। কখনও মনে হয়নি কেন তাঁর বর হল না বা কেন সন্তান এল না। তাঁর কথায়, এত মানুষ তাঁকে মা বলে ডাকে যে আলাদা করে আর কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জন্মায়নি। জন্ম দিলেই যে মা হওয়া যায়, এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা মাতৃত্ববোধই তাঁকে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

তবে প্রেম কি কোনও দিনই জীবনে আসেনি? এই প্রশ্নে মৃদু হেসে গায়িকার স্বীকারোক্তি, কেউ হয়তো তাঁকে ভালবেসেছিল, কিন্তু তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন, এত ভালোবাসার গান তিনি কাকে ভেবে গেয়ে থাকেন। তার উত্তরে হৈমন্তীর জবাব, সেই মুহূর্তে মাইক্রোফোনটাই তাঁর প্রেমিক হয়ে যায়। মঞ্চ, গান আর শ্রোতাই তাঁর জীবনের সমস্ত ভালোবাসা জুড়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ফের নতুন ষড়’যন্ত্র আঁটলো শিরিন! পারুলের বুদ্ধির কাছে কি হার মানবে শিরিন-সংযুক্তার নোংরামি? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তাঁর আত্মজীবনী এখনও সারেঙ্গিটা বাজছে। নামের মধ্যেই যেন লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের সারকথা। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু হৈমন্তী শুক্লা আজও থামেননি। সারেঙ্গির সুরে, গানের আবেশে তিনি আজও একই রকম প্রাসঙ্গিক, একই রকম আপন। বাংলা সংগীতের আকাশে তাঁর সুর যে এখনও অনবরত বেজে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Back to top button