প’রকীয়া থেকে প্র’তারণা সবই আছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পে! কোথায় হারিয়ে গেছে নির্মাতাদের মানবিক বোধ?

টেলিভিশনের পর্দায় (Bengali Television) সম্পর্কের সমীকরণ সবসময়ই সহজ পথে চলে না, আর ‘চিরসখা’ (Chirosokha) ধারাবাহিকের বর্তমান প্লটলাইন যেন সেই কথাটিই আরও একবার প্রমাণ করে দিল। সম্প্রতি ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে, মিঠি এক চরম সঙ্কটের সম্মুখীন। অতীতের এক অনভিপ্রেত দুর্ঘটনার রেশ ধরে তার শরীরে বেড়ে উঠছে এক নতুন প্রাণ। এই আকস্মিক সত্যটি মিঠির জীবনের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে।
মিঠির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি প্রথমে তার মা এবং পিসি আন্দাজ করতে পারেন। বর্তমানে এই চরম সত্যটি মিঠির মা, পিসি এবং স্বতন্ত্র ছাড়া আর কেউ জানে না। অন্যদিকে, মিঠির জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে তার ভালোবাসার মানুষ কৃষাণুর সঙ্গে। বিয়ের সানাই বাজার অপেক্ষার মাঝেই এই লুকানো সত্যটি যেন এক আগ্নেয়গিরির মতো হয়ে আছে।
মিঠি মন থেকে চায় কৃষাণুকে সবটা জানিয়ে দিতে, কারণ সে মনে করে ভালোবাসার ভিত্তি হওয়া উচিত স্বচ্ছতা। কিন্তু তার মা ও পিসি এই পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী। সত্যি জানলে কৃষাণু হয়তো মিঠিকে ভুল বুঝবে। দুই পরিবারের সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মিঠির ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয় পাচ্ছে তারা। ধারাবাহিকের এই মোড়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল একটি তথ্য গোপন করা নয়, বরং কৃষাণুর মতো একজন মানুষের সাথে প্রতারণা করার সামিল।
মিথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে কি কোনো সম্পর্কের ভবিষ্যৎ হতে পারে? ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে মিঠির মা ও পিসি যা করছেন, তাকে কি ভালোবাসা বলা যায়? কৃষাণুকে অন্ধকারে রেখে এই বিয়ে মানে তাকে ঠকানো। এতে সমাজকে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। যদিও মিঠির দোষ নয়, সে শুধুমাত্র একটা দুর্ঘটনার শিকার। তবুও বর্তমানে তা হচ্ছে সেটা মানতে রাজি নয় দর্শক।
আরও পড়ুনঃ এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে শাহরুখ খান ও দেব! টলিউডের দর্শকদের জন্য এই বছরের শ্রেষ্ঠ চমক! কি হতে চলেছে দুই নায়কের মধ্যে?
একটি সম্পর্কের প্রধান স্তম্ভ হলো বিশ্বাস। কৃষাণুকে অন্ধকারে রেখে বিয়ের পিঁড়িতে বসা তার প্রতি অবিচার। দর্শকদের মতে, বিয়ের পর এই সত্য জানাজানি হলে মিঠির সম্মান রক্ষা পাওয়া তো দূর থাক, সে আরও বড় লাঞ্ছনার শিকার হতে পারে। মিঠির মা ও পিসির ভালোবাসা ও সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা কি শেষ পর্যন্ত এক বড় বিপর্যয়ের রূপ নেবে? নাকি কৃষাণু তার ভালোবাসার জোরেই এই তিক্ত সত্যকে মেনে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে সেটাই দেখার অপেক্ষা।

