‘আমি এখন নিজেই জুন আন্টি সেজে মিম পোস্ট করি, কত ফলোয়ার্স…’ নাক বেঁকিয়ে জুন আন্টির নকল! চরিত্রটিকে বাস্তব জীবনে কিভাবে উপভোগ করেন উষসী চক্রবর্তী?

বাংলা বিনোদন জগতের (Tollywood) অন্যতম পরিচিত এবং দাপুটে অভিনেত্রী হলেন উষসী চক্রবর্তী (Usashi Chakraborty)। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা, সবখানেই তিনি তার অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। তবে কেবল অভিনয় নয়, তার স্পষ্টবাদিতা, অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং জীবনবোধ তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হলো স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘শ্রীময়ী’। এখানে খলনায়িকা ‘জুন একটি’ চরিত্রে তার অভিনয় তাকে ঘরে ঘরে পরিচিতি দেয়। ‘জুন আন্টি’ চরিত্রটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যপক চর্চিত এবং মিম-এর মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল।
রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি সব সময় সোচ্চার। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হলেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে তিনি বদ্ধপরিকর। শ্যামল চক্রবর্তী ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন। আর উষাসীও বাবার রাজনৈতিক মতাদর্শে বড় হয়েছে।
বাঙালির কাছে জুন আন্টি মানেই এক দাপুটে, কড়া এবং সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়া এক চরিত্র। কিন্তু পর্দার বাইরে উষসী যখন বাবার ওপর কড়াকড়ি করতেন তখন তার বাবা জুন আন্টি বলে ক্ষেপাতেন মেয়েকে। দীর্ঘদিন ধরে বাবার অতিরিক্ত সিগারেট খাওয়ার অভ্যাসটি নিয়ে উষসী বরাবরই চিন্তিত ছিলেন। বাবার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে উষসী যখনই বকাবকি করতেন বা সিগারেটের প্যাকেট লুকিয়ে রাখতেন, তখনই শুরু হতো এক মিষ্টি লড়াই। উষসী একজন আদর্শ কন্যার মতো শাসনের সুর চড়াতেন, আর বাবা তখন বাঁচার পথ খুঁজতেন। উষসীর সেই কড়া শাসন যখন মাত্রা ছাড়াত, তখন শ্যামলবাবু রসিকতা করে বলতেন, ‘আরে, তুমি তো দেখছি অবিকল জুন আন্টির মতো আচরণ করছো। এখন অন্তত জুন আন্টি হয়ে উঠো না!’
বাঙালি ড্রয়িং রুমের চেনা সমীকরণ বদলে দিয়ে উষসী চক্রবর্তীর জুন আন্টি চরিত্রটি। সাধারণত ধারাবাহিকের খলনায়িকাদের প্রতি দর্শকদের ঘৃণা থাকে, কিন্তু জুনের ক্ষেত্রে ঘৃণা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল তাঁর চারিত্রিক বৈচিত্র্য এবং সংলাপ বলার ধরণ, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের সৃষ্টি করেছিল। সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে জুন আন্টিকে নিয়ে মিমের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তাঁর হাসি, বিশেষ অঙ্গভঙ্গি এবং শ্রীময়ীর সঙ্গে তাঁর সংঘাতের দৃশ্যগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছিল হাজার হাজার ট্রোল এবং মিম।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি আর অভিনয় করব না, ১০ বছর পর…’ অভিনয় ছেড়ে দেবেন মিমি চক্রবর্তী? আগামী জীবন নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত! কি করতে চান অভিনেত্রী?
ভাইরাল হওয়া এবং ট্রোলিংয়ের বিষয়টিকে উষসী চক্রবর্তী নিজে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। অনেক সময় তিনি নিজেই নিজেকে নিয়ে তৈরি করা সেরা মিমগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেন। তাঁর এই আচরণ দর্শকদের আরও কাছে টেনে নিয়েছিল।

