‘ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিতের ছবিতে পরিচালক থেকে পার্শ্ব অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও সব এক থাকতো, শুধু পর্দা পাল্টে যেত!’ ইন্ডাস্ট্রির দাপুটে জুটিকে নিয়ে মুখ খুললেন জুন মালিয়া! একাধিপত্যের জোরেই শেষ হয়েছে অনেকের স্বপ্ন?

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত, টলিউড (Tollywood) বা বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ কার্যত এক দ্বিমেরু বিশ্বে পরিণত হয়েছিল। একদিকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee), আর অন্যদিকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। এই জুটি কেবল পর্দায় সফল ছিল না, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যবসায়িকভাবে বাঁচিয়ে রাখার মূল স্তম্ভ ছিল। তাঁদের জুটির সব ছবিগুলো ব্লকবাস্টার হিট হতো।
স্বপন সাহা, অঞ্জন চৌধুরী কিংবা হরনাথ চক্রবর্তীর মতো তৎকালীন প্রভাবশালী বাণিজ্যিক পরিচালকদের প্রথম এবং একমাত্র পছন্দ ছিল এই জুটি। প্রযোজকরা জানতেন, ছবিতে প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা থাকা মানেই লগ্নি করা টাকা ফেরত আসার গ্যারান্টি। এই আস্থার কারণে অনেক সময় স্ক্রিপ্ট বা চরিত্র তৈরি হওয়ার আগেই তাঁদের সাইন করিয়ে নেওয়া হতো। আর অনেকেই সেই সময় অভিনয়ের সুযোগ পেতেন না এই জুটির জন্য। সেই নিয়ে সাক্ষাৎকারে বহুবার বহু অভিনেতা অভিনেত্রীর নিজেদের রাগ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তার ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্য ঋতুপর্ণা এবং প্রসেনজিতকে সরাসরি ভাবে দায়ী করেছেন।
এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে একটি ইউটিউব চ্যানেলে অভিনেত্রী জুন মালিয়া কে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় সেখানেই জন্য নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কোনো একক জুটি একটি ইন্ডাস্ট্রিকে টানা ১০-১৫ বছর এভাবে টেনে নিয়ে গেছে, এমন উদাহরণ বিরল। তাঁদের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক রসায়ন ছিল যা দর্শকদের মুগ্ধ করত। কখনো তাঁরা আদর্শ দম্পতি, কখনো বিরহী প্রেমিক-প্রেমিকা, আবার কখনো গ্রামের সহজ-সরল জুটির চরিত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতেন।
আরও পড়ুনঃ ‘পালিয়ে গেলেও টেনে আনব…রাগে ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি আসা চলবে না!’ মা কখনও নাক গলাতেন না শ্বশুরবাড়ি কি হচ্ছে, বললেন স্বাগতা মুখার্জি! পর্দার দাপুটে খলনায়িকার, সুখী সংসারের চাবিকাঠি মায়ের শিক্ষা?
এই সম্পর্কে জুন মালিয়ার বক্তব্য, ‘বাকিদের মন্তব্য নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। শ্রীলেখা কেন বলেছে আমি সেসবে যাব না। কিন্তু আমার মনে হয় কমার্শিয়াল ছবির জন্যই ঋতুপর্ণা প্রসেনজিৎ এর জুটি তৈরি হয়েছিল। বুম্বাদা ঋতুর একটি খুব সফল জুটি হয়ে গিয়েছিল। তখন স্বপন সাহা ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, তিনি একদিন পর্দা পাল্টে তিনি তিনটে ছবি তৈরি করে ফেলতেন। বুম্বাদা ঋতু ছিল হিরো হিরোইন এবং পার্শ্ব চরিত্রে যারা অভিনয় করছে তারাও একই ছিল। উনার একটা কমন গ্রুপ ছিল, সেই গ্রুপ নিয়ে তিনি কাজ করতেন। তিনি ওই গ্রুপ থেকে বেরোতেন না। কারণ সেই গ্রুপেই তার জন্য সফল ছিল।’
সমসাময়িক সহকর্মী শ্রীলেখা মিত্রের পুরনো কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে কোনো কাটাছেঁড়া না করেই জুন তুলে ধরলেন সেই সময়ের ইন্ডাস্ট্রির আসল সমীকরণ।

